বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (২য় খণ্ড) ৪৭ থেকে ৭১ এবং প্রাসঙ্গিক কথা গ্রন্থটি মেজর জেনারেল (অব.) এম. এ. মতিন রচিত বাংলাদেশের ইতিহাসভিত্তিক এক বিশাল ও প্রামাণ্য গবেষণাকর্ম। ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলামির শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ি। অতঃপর সুদীর্ঘ ১৯০ বছরের সশস্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হই। ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকার এ ভূখন্ড স্বাধীন পাকিস্তানের পূর্বাংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফলে চরমভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত এ অঞ্চলের ৪ কোটি ভাগ্যাহত ভুখানাঙ্গা মুসলমান সেদিন একটি স্বাধীন জাতির মর্যাদা লাভ করতে পেরেছিল। তারও চব্বিশ বছর পর আজকের পৃথক রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে সাবেক পাকিস্তান ভেঙ্গে, যার উদ্ভব ঘটতে পেরেছিল সাবেক পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের এক স্বাতন্ত্র্য জাতীয়তাবোধ থেকে। সাবেক পাকিস্তানে বাংলাভাষীরা ছিলেন জনসংখ্যায় অর্ধেকের বেশি। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল ১৭০০ কিলোমিটার। ভাষা ও ভৌগোলিক ব্যবধান সৃষ্টি করেছিল একটা স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ, ভিন্ন জাত্যাভিমান। পাকিস্তান আন্দোলনে আমাদের অবদান বেশি ছিল বিধায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি এবং প্রত্যাশাও ছিল অনেক। তবে এ কথা সত্য যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি ঘটেনি বলেই আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি, স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে স্বাধিকার আন্দোলন করেছি এবং পরিশেষে পাকিস্তানী শাসন ও শোষণের নাগপাশ থেকে চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে আমরা লিপ্ত হয়েছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। আর সে স্বাধীনতা যুদ্ধই ছিনিয়ে আনে ১৬ই ডিসেম্বরের মহান বিজয়। কাজেই আমাদের মূল দাবির একটি অংশ সাতচল্লিশে পূরণ হয়, অপর অংশ পূরণ হয় একাত্তরে। আর তাই, প্রতিবেশী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত রেখা আজ এক বাস্তব সত্য। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি গভীরভাবে জানতে চান, গবেষণা বা একাডেমিক কাজে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজছেন—তাদের জন্য এই বইটি একটি অপরিহার্য রেফারেন্স।যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি গভীরভাবে জানতে চান, গবেষণা বা একাডেমিক কাজে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজছেন—তাদের জন্য “বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম” এই বইটি একটি অপরিহার্য রেফারেন্স।
Reviews
There are no reviews yet.