১৮০০ সালের ইংল্যান্ডের ভিড়ে গড়ে উঠা এক গল্পের চাদর “স্টারডাস্ট”। রূপকথার গল্প। রূপকথার মতো হলেও চমৎকার গদ্যময় বর্ণনা আর এক জাদুকরি যাত্রার ছোঁয়া ছিল শেষ অবধি। তবে রূপকথা দেখে শুধুই ‘শিশুতোষ’ ভেবে ভুল করবেন না। এটা শিশূদের জন্য অনুপোযোগী। অনেকটা বড়দের রূপকথা বলা যায়। যেখানে সত্যের জয়, মিথ্যার হার বা সবসময় হ্যাপি এন্ডিং এমন টাইপ গল্পের স্রোত নেই। নিল গেইম্যানের লেখা যেন শুধু পড়তে বাধ্য করে না বরং ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। গল্পের ভেতরে। চরিত্রের সাথে সাথে। একটা জাদুময় শহরে যার অস্তিত্ব মনে হয় সত্তি ই আছে। কিংবা ছিল। এখন আর নেই… ওয়াল নামক শহরকে ঘিরে যে গল্পের শুরু, যে শহরটি লোকচক্ষুর আড়ালে একটি পাথরের আড়ালে। বিশাল বড় পাথর। যার মধ্যখানে একটা চিড় যেন শহর থেকে অপর প্রান্তে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয়। এক তরুণ যে কিনা এক পরী কন্যার প্রেমে পড়ে। তাদের সম্পর্কে জন্ম নেয় একটি শিশু। চমৎকার সেই শিশুটির নাম বড্ড কঠিন। সহজ অর্থে আমি তাকে ডাকি থর্ন হিসেবে। থর্নের হুট করে আবির্ভাব ঘটে তার বাবার ঘরে। সেখানেই বেড়ে উঠে। এখন সে তরুণ। প্রেমে মত্ত এক প্রেমিক। যে তার প্রিয়তমাকে পেতে সবচেয়ে কঠিনতম কাজটি করতে চলেছে। অপরপাশের জগতে প্রবেশ করে একটি তারা নিয়ে আসতে চলেছে। কিন্তু সবটাই কি এতো সহজ? খচিত তারা নিয়ে আসার পথটা বড্ড এডভেঞ্চারময়। কারণ তারা কোনো পাথর নয়, বরং একটি জীবন্ত মানুষ। নক্ষত্রকন্যা–যাকে বলা যায় সন্ধ্যাতারা হিসেবে। এখানেই গল্প এগোয়। আসে জাদুকরী প্রাণী। আসে এক দুষ্টু রাণী। তবে সবটা শেষে গিয়ে এমন নাও হতে পারত। সবসময় হ্যাপি এন্ডিং আশা করলে যেমন আশাহত হতে হয় এখানের বিষয়টা তেমন। কিছু বর্ণনা লেগেছে মাত্রারিক্ত। কিছু ক্ষেত্রে সময় এগিয়ে দ্রুত। সেটা শুধু অতীতের গল্পকে তুলে আনতে। তবে মূল চরিত্রকে দাঁড় করাতে লেখক পর্যাপ্ত সময় নিয়েছেন। নতুন একটা জগতের তৈরিতে লেখক তাড়াহুড়ো দেখাননি। শেষ অবধি থর্নের সাথে জার্নিটার সাথে লেগে থাকা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে আঠারো+ বিষয়াদি না টানলেও গল্পের স্রোতে ভাটা পড়ত না। তবে সেটা পাঠকের উপর। “স্টারডাস্ট” শুধু রূপকথা নয়, বরং এটি বড়দের জন্য এক গভীর, জটিল এবং বাস্তবতার ছোঁয়াযুক্ত ফ্যান্টাসি। সর্বোপরি দারুন একটা বই আসতে চলেছে সামনে। অনুবাদককে ধন্যবাদ একের পর এক ধামাকা পাঠকদের উপহার দেয়ার জন্য…
Reviews
There are no reviews yet.