নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমূলক সকল আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি অসামঞ্জস্য দূর করে নারীর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিবেদনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আধুনিকায়ন এবং সাইবার বুলিং নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটির (paternity leave) ধারণা প্রবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে পারিবারিক দায়িত্বের বোঝা সুষম হয়। মূলত, কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব জীবনে নারীর সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনই এই প্রতিবেদনের মূল রূপরেখা। নারী অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়ননীতি বিষয়ে আগ্রহী গবেষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন পাঠকদের জন্য “নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন” এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স।
Reviews
There are no reviews yet.