মৌনতা ক্লাব
মৌনতা ক্লাব
By (author) মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়
মানব জনমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা কখন হাজির হয়, কে তাহারে চিনতে পারে? কে এসে গো মদিনায় তরিক জানায় এ সংসারে? কী সেই তরিক, সেই বৈপ্লবিক সম্ভাবনা– যা চিরহাজির? একদা লালন ফকির এই প্রশ্ন তুলেছিলেন কুষ্টিয়ায় বসে। অনেকটা একইরকম প্রশ্ন চিন্তায় অনুবাদ করার একটা দম না-ফেলা চেষ্টা থেকেই পারভেজ আলম ‘মদিনা’ নামক বইটি রচনা করেছেন। বইটির অধ্যায়গুলো মদিনা প্যারাডাইম নিয়ে এমন একটি সুসামঞ্জস্য আলোচনা হাজির করে যে এটিকে একটি স্বতন্ত্র সন্দর্ভ হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে। জাতি-রাষ্ট্র ও জাতি-পরিচয়ের ব্যাপারে লেখক এমন অনেক প্রশ্ন জাগ্রত করেছেন, যার পূর্ণাঙ্গ রফা তিনি এই দুই মলাটের ভেতর নিবিষ্ট করতে পারেন নাই। সেই সব চোখা প্রশ্নকে পাঠক প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করবেন।
ম্যাথ-ম্যাজিক
ম্যাথ-ম্যাজিক
By (author) মাসুদুর রহমান
বইটি খুলে দেখার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। এবার ঝটপট নিচের কাজগুলো করে ফেলো—
১) ৩৬৫৭ কে ১১ দিয়ে গুণ করো
২) ভাগ করো: ৭৫৬২ ÷ ৯৯
৩) ৮৫ এর বর্গ করো
৪) ১৮৪৯ এর বর্গমূল বের করো
৫) ২৪৩৮৯ এর ঘনমূল বের করো
এই সমস্যাগুলো কয়েক সেকেন্ডে মুখে মুখে করতে না পারলে এই বইটি তোমার জন্য। এখানে গণিতের চেনাজানা সব নিয়মের বাইরে সংখ্যা নিয়ে অন্যরকম কিছু একটা করা হয়েছে। মজায় মজায় গণিতের কিছু ম্যাজিক দেখানো হয়েছে।
তাহলে আর দেরি কেন? চলো শুরু করি—
ম্যাথ-ম্যাজিক বা গণিতের জাদু শিখতে তোমাকে স্বাগতম।
যখন আমি রেগে যাই
যখন আমি রেগে যাই
By (author) মাইশা ইসলাম
বাড়িতে ও স্কুলে বিভিন্ন কারণে শিশুরা রেগে যায়। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তারা ভাঙচুর করে, সহপাঠীদের সঙ্গে মারামারিও করে। রাগান্বিত শিশুদের সামলাতে বাবা-মা ও শিক্ষকেরা প্রায়ই হিমশিম খান।
এই বইটি পড়ে শিশুরা নিজেরাই নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শিখবে। এতে তাদের মানসিক বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।
যখন ফুটিল কমল
যখন ফুটিল কমল
By (author) জাহিদুর রহিম
বাংলা ভাষার খুব কম পাঠক মস্তিষ্কের ব্যবহার হয় এমন বই পড়তে স্বস্তি পান। যে কারণে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর টেলিভিশন জনপ্রিয় হয়েছে আজকাল। একটা নির্বোধ ‘ব্রেইনলেস মনস্টার’ তৈরি হয়ে গেছে চারপাশে। ‘ফ্যামিলিয়ার এসে’র সুবিধা হলো, আপনি এটাকে আত্মকথন, প্রবন্ধ, গল্প বা উপন্যাস যেকোনোভাবেই পড়তে পারেন। আপকি দিল কি মর্জি, এ বিষয়ে লেখক হিসেবে দাবি নেই। ‘এই তো জীবন’ ট্রিলজির প্রথম বই ‘কথারা আমার মন’ বের হয়েছে ২০১৮ সালের এপ্রিলে, বেঙ্গল পাবলিকেশান্স থেকে। এই বইটাকে ট্রিলজির দ্বিতীয় বই বলা যায়। যারা সামাজিক চাপে এখনও পুরোপুরি বিবেক হারাননি, স্বাধীন ও সচেতনভাবে শান্ত জীবন যাপন করেন, তাদের এই বই ভালো লাগবে বলে আশা রাখি।
লিখতে লিখতেই লেখক বুঝতে পেরেছেন, গদ্য বা রচনা মানে একটা ‘সংযুক্তি’, ‘আর্টিকুলেশন’, ‘ইন্টারলিংকড’, ‘সমন্বয়’, আন্তঃযোগাযোগ এবং জগতের যেকোনা বিষয় দিয়েই তা হতে পারে। এই ‘আর্টিকুলেশন’টুকুতে নানান মাত্রায় দুনিয়া আপন ইতিহাসকে লিখে রাখে। দেখা যায় যেমন দর্শনের ইতিহাস, সমাজ বিদ্যার ইতিহাস ইত্যাদি থেকে আমার নিজের আগ্রহ চলে গেছে লেখা থেকে। যখন আমি নিশ্চিতভাবে জানিই যে, এমন কাব্যিক ইতিহাস, দর্শন বা ভাষার বিষয়ে বিরতিহীনভাবে লিখতে পারব, তাহলে কেনই-বা আমি লিখব? চলচ্চিত্রের ইতিহাসের ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ তারকোভস্কি কী সুন্দর করে বলেছেন কথাটা— ‘মানুষ আর্ট বা শিল্প তৈরি করে কেন? অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য? কিন্তু আমি যদি সত্যই জানি যে আমি প্রতিভাবান, তাহলে কেন আমি শিল্পচর্চা করব?’
‘যখন ফুটিল কমল’-এর গদ্যগুলোতে ‘ফ্যামেলিয়ার এসে’ লেখা হয়েছে, রচনার দিকেই ঝোঁক। এখানে লেখার গন্তব্য ‘অনুপস্থিত’, বলা যায়, সব মিলিয়ে ‘অনুপস্থিতি’ই লেখার বিষয়। অনুপস্থিতি লেখায় গতির এক মাত্রা যুক্ত করে, অপ্রত্যাশিত মাত্রা, যোগাযোগহীন ও বহুমাত্রিক যাত্রা, ব্যক্তিজীবনের মতোই। অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়হীন লক্ষ্যহীন লেখা হয় না, সম্ভব না। ‘যোগাযোগহীনতা’ পাঠক লেখায় পাবেন, যা দূরত্বে থেকে দেখা যাবে স্পষ্ট, কিন্তু অতিক্রম করা যাবে না কখনোই। সবগুলো শব্দের মধ্যেই নৈঃশব্দ্যের একটা দুঃখ যেন কুয়াশার মতো ছড়ানো। যে দুঃখ ‘প্রেমকেন্দ্রিক’ কাব্যিক দুঃখ না-দূরত্বের; অপরিচয়ের, অসম্পূর্ণতার অভিজ্ঞতার দুঃখ।
যত বড় মুখ নয় তত বড় ছড়া
যত বড় মুখ নয় তত বড় ছড়া
By (author) রোমেন রায়হান
আমরা মানুষ ছোট হলেও আমাদের চারপাশে ঘটা ঘটনার প্রায় সবই বড় বড়। রাজনীতি, খেলাধূলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, বিনোদন বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে একটি বড় ঘটনা ঘটলে সেটা নিয়ে আলোচনার স্থায়িত্ব খুবই কম। কারণ দুদিন পার হওয়ার আগেই এরচেয়ে বড় আরেকটি ঘটনা ঘটে বসে থাকে। আমাদের, মানে আমজনতাদের ছোট মুখে সেইসব বড় বিষয় নিয়ে কথা বড়ই বেমানান। আমরা নীরবে দেখি অথবা অত্যন্ত নিচুস্বরে নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা করি।
ছড়াকাররা আচরণে আমাদের চেয়ে আলাদা। বিষয় যত বড়ই হোক, তারা সেই বিষয়ে নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন না। ছড়াকার হিসেবে রোমেন রায়হানও এর ব্যতিক্রম নন। সমাজের বড় বড় অসঙ্গতি নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন দুর্দান্ত সব ছড়া। আমাদের গিলে ফেলা কথাগুলোর ছন্দোবদ্ধ উচ্চারণ নিয়েই এই ছড়ার সংকলন যত বড় মুখ নয় তত বড় ছড়া।
যুক্তিফাঁদে ফড়িং
যুক্তিফাঁদে ফড়িং
By (author) চমক হাসান
‘আমি ব্যাগ কোথায় রাখব, সেটা তুই বলার কে? যতসব চাষাভূষা-মূর্খ লোকজন আমাকে ঠিক-বেঠিক শেখাতে আসছে!’…
হাসিব মনে মনে বলল, ‘Ad Hominem! অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি আক্রমণ। ব্যাগ রাস্তায় রাখা যাবে না, এই কমনসেন্সের জন্য ছেঁড়া জামা কিংবা চাষাভূষা হওয়ার কোনো সংযোগ নেই। এখানে যেটা হয়েছে, সেটা একটা Logical Fallacy। যুক্তির ভ্রান্তি…
হাসিবের মাথার ভেতরে যুক্তির ভ্রান্তিগুলো ঘুরতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিতর্ক করতে সে দারুণ ভালোবাসত। এই যুক্তির ভ্রান্তিগুলো তখন মাথায় রাখাটা খুব জরুরি ছিল। এগুলো অবশ্য এখনো জরুরি। জীবনে চলতে-ফিরতে কত জায়গায়ই না এসব দেখা যায়! এগুলো থেকে সতর্ক হওয়াটা দরকার…
তাই বলে তুমি এমন করো, তর্কে জেতার জন্য- এমন করেই বদলাও কথা মানে হয়ে যায় অন্য
যে অঙ্কে কুপোকাৎ আইনস্টাইন
যে অঙ্কে কুপোকাৎ আইনস্টাইন
By (author) Munir Hasan
গণিতের নাম শুনলে জ্বর আসে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয়, অথচ গণিতে যারা পারদর্শী, তাদের কাছে শোনা যায় গণিত নাকি খুবই মজার বিষয়! কখন গণিত ভয়ের আর কখন সেটা জাদুর মতো আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে? যারা গণিতের মজা পান তারা কি জন্মগতভাবেই মেধাবী, নাকি এটা তাদের গণিতচর্চার ফল? চর্চার মাধ্যমেই গণিতের ভয় জয় করা সম্ভব। একবার গণিতের ভয় জয় করা গেলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় না। কার্যকরণ বুঝে নিয়মের মধ্য দিয়ে নিয়মিত গণিতের চর্চা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। গণিত তো আসলে মস্তিষ্কেরই একটি ব্যায়াম, যার মাধ্যমে আমরা মেধাবী একটা প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি। মুনির ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ২০ বছরের। যেকোনো কঠিন বিষয়কেও তিনি গল্পের মতো করে, সহজ করে বলতে পারেন। যে অঙ্কে কুপোকাত আইনস্টাইন বইয়েও সেটা দেখেছি। এই বইয়ে গণিতের এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যাকে আমরা ধাঁধাও বলতে পারি। গল্পের ছলে আলোচিত এ বিষয়গুলোর চর্চা শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আকর্ষণ বাড়াবে, ভয় দূর করবে। সর্বোপরি তাদের গণিতে দক্ষতা তৈরি করবে। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী গণিত মুখস্থ করতে বাধ্য হয়। কারণ এতে তারা মজার বা আনন্দের কিছুই খুঁজে পায় না। তাই তাদের নতুন কিছু জানার তৃষ্ণাও তৈরি হয় না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি তৃষ্ণা ও ভালোবাসা জন্মানোর জন্য এ বই একটি জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ
চেয়ারম্যান, অন্যরকম গ্রুপ
যে পথে জ্যান্ত গল্পেরা হেঁটে গেছে
যে পথে জ্যান্ত গল্পেরা হেঁটে গেছে
By (author) শিপ্রা দেবনাথ
রাষ্ট্র আমাদের কীভাবে নিঃস্ব আর অসহায় করে তার অনন্য উদাহরণ শিপ্রা দেবনাথ। তবু মুখে তালা ঝুলিয়ে আর কত ঘুরব আমরা? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো অবশেষ কে আর আছে? বুকে পাথর নিয়ে চলতে, আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সমাজ প্রতিদিন শেখায়, হাতে কলমে। কখনো ধর্মের নামে, কখনো তথাকথিত আইনের নামে আহুতি দিতে দিতে জীবনের মূল্যমান এখন মূল্যহীনতার চূড়ান্ত সীমায় গিয়ে ঠেকেছে। সমাজ, রাষ্ট্রের যূপকাষ্ঠে অনন্ত সম্ভাবনার জীবনের এই অবচয় ক্ষতবিক্ষত করে সংবেদনশীল কবিসত্তাকে। বিদীর্ণ হৃদয়ের ক্ষতগুলো কখনো আত্মচিৎকার, কখনো পাওয়া-হারানোর যুগপৎ আনন্দ-বেদনার স্মৃতিময়তা, কখনো হাতের তালুতে হঠাৎ চমকে ওঠা অশ্রুবিন্দুর মতো কবিতার অক্ষরে বুনে চলা। এই বইয়ের কবিতাগুলো সময়ের ও আমাদের অজস্র টুকরো হয়ে যাওয়া সত্তার মতোই জীবন্ত।
যে রাতে শয়তান আমাকে কাঁদিয়েছিল
যে রাতে শয়তান আমাকে কাঁদিয়েছিল
By (author) হুমায়রা স্যারন
শহরের এক ধনী ব্যক্তির কাছে একটা ট্রেজার বোল রয়েছে। এমন গুজব শোনা গিয়েছে, সেই বোলে স্বর্ণ রাখা হলে তা বহুগুণ হয়ে যায়। শুধু স্বর্ণ নয়, সে পাত্রে যা-ই রাখা হয় তা ক্রমাগত বাড়তেই থাকে।
দেখতে দেখতে দূরে মেঘালয়ার ওপরে আকাশ তার রং পাল্টে ফেলল। সে এক মায়াময় আলো, যে মায়া আগলে রাখে পাহাড়কে, হাওড়কে আর হাওড়ে ভাসতে থাকা মানুষগুলোকে।
দেওয়ালে ঝোলানো ছবিতে লেকের পাশে পড়ে থাকা এক তরুণীর মৃতদেহ। আর জাকুজির পাড়ে পড়ে আছে এক রূপবতীর সদ্যমৃত শরীর। একজন ভালো চিত্রকর ছবিটা কীভাবে আঁকবেন? দুজনের ঠোঁটের ওপরেই কি ছুঁয়ে যাবে তার তুলির লাল রঙ?
লু সি ওয়েন যখন কপালের চামড়ায় ছোরা ঠেকালেন তখন তার দৃষ্টি পড়ল মেয়েটার চোখে। এই দৃষ্টির সামনে তার মানবজীবনে অর্জিত সমস্ত মনোবল কাচের টুকরার মতো ভেঙে যেতে লাগল।
ড্রাগনের প্রতিকৃতির চোখ-ঝলসানো রঙ, ঝুলন্ত লাল গোলাকার লন্ঠনের আভা, পুরনো ইমারতের জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা সব মিলিয়ে চিংহুয়াই নদীর শাখায় আলোর এক অনৈসর্গিক খেলা আরম্ভ হয়েছে।