পাঁচ দশকের গল্প বলতে যে সময়কালকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে তা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম-পরবর্তী পাঁচ দশক। যদিও এই সংকলনের প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত লেখকদের কেউ কেউ এই কালপরিসরে আবির্ভূত হননি, তবে একাত্তর-পরবর্তীকালে তাঁদের রচিত গল্পগুলোও তাঁদের রচনারীতির প্রতিনিধিত্বের দাবিদার বলেই আমাদের ধারণা। সত্তর-আশি বা পরের দশকের লেখকদের যে সমস্ত গল্প নেওয়া হয়েছে, সেসবকে দশকওয়ারি বলাই সংগত। দ্বিতীয় খণ্ডে ৩১ জন গল্পকারের রচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভিযাত্রা এ ভূখণ্ডের ছোটোগল্পের আঙ্গিককেও পাল্টে দিয়েছে গভীরভাবে। সাম্প্রতিক ছোটোগল্পে তার স্পন্দন লক্ষ করা যায়। গল্পের পটভূমি-গ্রাম বা শহর-যা-ই হোক, কাহিনির প্রয়োজনে, নির্মাণের প্রয়োজনে লেখক বারবার নতুন নতুন আঙ্গিকের আশ্রয় নিয়েছেন, আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। গল্পের আঙ্গিক তো সাধারণভাবে এই যে, কাহিনি কীভাবে গড়ে উঠবে আর কোন পথে এগোবে আঙ্গিকই নির্ধারণ করে দেয় সেসবের প্রকৃতি, উদ্ভাসন ঘটায় লেখকের নিজস্ব শৈল্পিকতার। দ্বিতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত গল্পে ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এই খণ্ডের ৩১ জনের গল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছোটোগল্পের বিকাশ ও বৈচিত্র্যের অন্বেষণ বুঝে নেওয়া যায়।
Reviews
There are no reviews yet.