সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা “দেশে বিদেশে” বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণকাহিনী। এটি ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে লেখকের ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো: ভ্রমণকাহিনী ও ইতিহাস: এটি কেবল একটি ভ্রমণলিপি নয়, বরং তৎকালীন আফগানিস্তানের সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল। রসবোধ ও বর্ণনা: লেখকের গভীর জীবনবোধ, সূক্ষ্ম রসবোধ এবং বর্ণনার সাবলীল ভঙ্গি পাঠককে মুগ্ধ করে। তিনি আফগানিস্তানের মানুষ, তাদের জীবনযাত্রা, কাবুলের বাজার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছুই অত্যন্ত রসময় করে তুলে ধরেছেন। ভাষা ও শৈলী: বইটিতে ফারসি ও উর্দু সংস্কৃতির প্রভাব থাকলেও, লেখকের লেখার হাত এতটাই চমৎকার যে তা বুঝতে পাঠকের অসুবিধা হয় না। বিভিন্ন শ্লোক ও রূপকের যথার্থ ব্যবহার বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আফগানিস্তানের বাদশাহ আমানুল্লাহকে হটিয়ে ডাকাত বাচ্চু সকা যখন কাবুলের সিংহাসন দখল করে, সেই কঠিন সময়ে লেখকের অভিজ্ঞতার বর্ণনা “দেশে বিদেশে” বইটিকে অনন্য করে তুলেছে। অনেক সমালোচকের মতে, এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণকাহিনী, যা আজ পর্যন্ত অন্য কোনো ভ্রমণকাহিনী অতিক্রম করতে পারেনি।
Reviews
There are no reviews yet.