পুরুষ
পুরুষ
By (author) রোকেয়া লিটা
হোস্টেল জীবন, অনেকটা শাষন-বারণ বিহীন জীবন। তার উপর যদি থাকে পারিবারিক টানাপোড়েন, তাহলে তো কথাই নেই। ভুল পথে পা বাড়ানোর জন্য একটি মেয়ের জীবনে এ দুটো কারনই যথেষ্ট। তেমনই একটি মেয়ে মৃদুলা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছে সে আজিমপুরের ছাপড়া মসজিদ কলোনি আর নীলক্ষেতের মহিলা হোস্টেলে। মফস্বল থেকে আসা এই মেয়েটির পরিবারবিহীন জীবনে সাবলেট বা হোস্টেলের বান্ধবীরাই সবচেয়ে কাছের মানুষ। হঠাৎ মৃদুলার উপরে ভর করে প্রেম। ক্লাসমেট-রুমমেটদের উপুর্যপুরি ঠাট্টা আর রসিকতায় সেই প্রেম আরও গভীরে চলে যায়। অল্পদিনের মধ্যেই মৃদুলা টের পায়, তার প্রেমিক ভীষণ কপট একজন পুরুষ। দুদিন পরপরই সে প্রেমিকা বদল করে। কিন্তু, আশ্চর্য্যজনকভাবে এই কপট পুরুষটি মৃদুলার মনের একটা বিশাল জায়গা দখল করে নেয়। বারবার মৃদুলাকে ছেড়ে সে অন্য প্রেমিকাদের কাছে চলে গেলেও, ঠিকই মৃদুলা তাকে আবার আপন করে নেয়। অবশ্য, কপট এই পুরুষটিকে প্রশ্রয় দেয়ার চরম শিক্ষাও পায় মৃদুলা। এই উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে একাধিক পুরুষ চরিত্র। কখনও সে পুরুষটি মৃদুলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসমেট, কখনও সে পুরুষটি মৃদুলার প্রেমিক, আবার কখনও সে পুরুষটি মৃদুলার কোনো রুমমটের ভাই অথবা প্রেমিক, কখনও বা সে পুরুষটি মৃদুলার প্রেমিকের বন্ধু। এই পুরুষ চরিত্রগুলোর ব্যবচ্ছেদ করাই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলেও, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে মেয়েদের সাবলেট বা হোস্টেল জীবনের নানান ঘটনা, এসেছে হিন্দু-মুসলমানের প্রেম নিয়ে নানা জটিলতাও। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে, গল্পে গল্পে নারীর চোখে পুরুষকে দেখার একাধিক প্রয়াস চালিয়েছেন উপন্যাসটির রচয়িতা।
পুরুষতন্ত্র ও নারী
পুরুষতন্ত্র ও নারী
By (author) ফরহাদ মজহার, ফরিদা আখতার
নারী প্রশ্নে আধুনিককালেও খুব প্রাচীন একটি লড়াই চলছে। ক্ষমতা, সমাজ ও ইতিহাসের সুনির্দিষ্ট অবস্থা থেকে নারীকে বিচ্ছিন্ন অনুমান করেই সাধারণত ‘নারী’ নিয়ে ভাবাভাবি হয়। ফলে নারী সমাজ বা ইতিহাসের কোনো সত্তা না হয়ে স্রেফ শরীর হয়ে ওঠে। তখন নারীবাদ পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা বা সম্পর্কের পর্যালোচনা বা বিরোধিতা নয়, হয়ে ওঠে বায়োলজিক্যাল পুরুষের বিরুদ্ধে বায়োলজিক্যাল নারীর বিদ্রোহ। ক্ষেত্রবিশেষে সেই বিদ্রোহ ব্যক্তি পুরুষের পর্যায়ে ন্যায্য হলেও, পুরুষতন্ত্র ও ক্ষমতার প্রশ্ন আমাদের পর্যালোচনার বাইরে থেকে যায়।
পুরুষতন্ত্রের গোড়া উপড়ে ফেলা যাদের চিন্তা ও কাজের গোড়ায় থাকে, সাধারণত তারা ‘নারীবাদী’ নামে পরিচিত। কিন্তু নারীবাদ শুধু নারীর মুক্তির কথা বলে না, পুরুষতান্ত্রিক নিগড় থেকে সবার মুক্তির কথা বলে। অতএব, এটাও পরিষ্কার থাকা চাই যে পুরুষতন্ত্রের মোকাবিলা স্রেফ নারীর জিজ্ঞাসা নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পুরো সমাজেরই জিজ্ঞাসা।
নারী প্রশ্নে একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা ও পাশ্চাত্য নারীবাদী চিন্তা এবং চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন নীতির বিপরীতে ভিন্নভাবে ভাবার তাগিদ থেকেই লেখা এই বই—পুরুষতন্ত্র ও নারী।
পুরুষতন্ত্র নারী ও শিক্ষা
পুরোনো বাংলা গদ্য
পুলিশের কথা
পূর্ণিমায় নখের আঁচড়
পূর্নিমায় নখের আঁচড়
পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলিতে শেখ মুজিব (১৯৫৫-৫৮)
পূর্ব বাঙলার ভাষা: আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি-১
পূর্ব বাঙলার ভাষা: আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি-২
পূর্ব বাংলার ফটোগ্রাফি
পূর্ব বাংলার ফটোগ্রাফি
By (author) নাসির আলী মামুন
গোলাম কাসেম ড্যাডির জন্ম ১৮৯৪ সালের ৫ নভেম্বর, ভারতের জলপাইগুড়িতে। বাংলাদেশের প্রবীণতম আলোকচিত্রী ও প্রথম বাঙালি মুসলমান ছোটগল্পকার। জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরেই তার মায়ের মৃত্যু হয়। হাওড়া থেকে ১৯১২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে আইএ। ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদানের কারণে লেখাপড়া সমাপ্ত হয়ে যায়। ১৯১৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। ফটোগ্রাফিতে হাতেখড়ি হয় ১৯১২ সালে। পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রপিক্যাল ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি’ প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৫১ সালে। ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মাত্র দুই বছর চালু ছিল। ১৯৬৩ সালে ‘ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব’ নামে একটি ফটোগ্রাফি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তার লেখা ছোটগল্প সওগাত পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হতো। পরবর্তী সময়ে আলোকচিত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ছোটগল্পের আলাদা কোনো বই প্রকাশ করতে পারেননি। তবে ফটোগ্রাফি নিয়ে লিখেছেন একাধিক বই। যার মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত ক্যামেরা, ১৯৮৬ সালে ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব কর্তৃক প্রকাশিত এক নজরে ফটোগ্রাফী এবং ২০০২ সালে পাঠশালা দৃক কর্তৃক প্রকাশিত সহজ আলোকচিত্ৰণ। সম্মানসূচক ফেলো বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ফটোগ্রাফিক কাউন্সিল (ফটোগ্রাফি), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (সাহিত্য) অর্জন করেন। ৯ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে ১০৩ বছর বয়সে তিনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। এই বাংলার ফটোগ্রাফির ইতিহাস পরিপূর্ণভাবে রচনার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্রশিল্পী।
বাংলা ভাষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফটোগ্রাফির বই বলে আমরা বিশ্বাস করি।