ঘর নাই
ঘরোয়া রান্না
ঘুড্ডি ভোকাটা
ঘুড্ডি ভোকাটা
By (author) সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের
মানুষ মানুষের সম্পর্কগুলোকে নানানভাবে টিকিয়ে রাখার এক প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। বিভিন্ন পরিস্থিতি হয়তো সম্পর্কগুলোর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে। এই সৃষ্ট বাধা কখনো মানুষ নিজে তৈরি করে আর কখনো প্রকৃতি তৈরি করে দেয়। এই বাধাই মানুষকে নতুন দিকে ধাবিত করে এবং তা কখনো ভালো কিছুও হয়ে যেতে পারে। এই গল্পগুলোর মধ্যেই যেসব চরিত্র আছে, তাদের নিজেদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে টিকিয়ে রাখার গল্পগুলো তুলে ধরা হয়েছে। গল্পে মহামারি করোনায় টিকে থাকা কিছু চরিত্র এবং তাদের পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই মহামারি করোনার কবলে পড়ে মানুষ তার নিজের ভিতরের সত্যকে যেমন আবিষ্কার করেছে তেমনি বাস্তবতায় পড়ে মানুষ তার অসহায়ত্ব বুঝতে পেরেছে।
আকাশে বহু ঘুড়ির মধ্যে হুট করে একটা ঘুড়ি কেটে হেলে-দুলে উড়ে যায় তার কিছু সুতোর অংশ নিয়ে। মানুষ এই করোনায় হুট করে তাদের ভালোবাসার মানুষদের সুতোর একটা অংশ নিয়ে চলে গেছে। তারপরও মানুষ টিকে থাকে নতুন কোনো আশায়, নতুন কোনো ভালোবাসায়।
ঘুমকাতুরে ঈশ্বর
ঘুর্নিঝড় সিডর বিদ্ধস্ত উপকুল
চক্রবিধি
চক্রবিধি
By (author) আসিব রায়হান
সপ্তর্ষির ঐশী,
মনে পড়ে? আমাদের দুজনের একবার একসঙ্গে তারা দেখার সুযোগ হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, তারা যেমন সব সময় পাশে থাকে, ঠিক তেমনি, তুমিও আজীবন পাশে রবে। আজ একা দাঁড়িয়ে দেখি, তারা পাশে আছে ঠিকই, কিন্তু তুমি পাশে নেই!
আমাদের ভালোবাসাটা যেন ছায়ার মতো। নিজের ছায়াকে ধরতে গেলেই দূরে সরে যায়, আবার ছেড়ে এলে পিছু নেয়। এই যে দেখো, এবার কেন যেন মনে হলো তোমায় কাছে পাব; কিন্তু হলো এর উল্টোটা। তুমি ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছ!
ঐশী জানো? যখন তোমাকে ভাবছি, ঠিক তখনই দূর থেকে আসা সুগন্ধি হাওয়া আমাকে স্পর্শ করল। আমার এলোমেলো চুলগুলো আরও এলোমেলো করে দিল। মনে হচ্ছে যেন এ হাওয়া নিশ্চয়ই তোমাকে স্পর্শ করে এসেছে। নইলে এ রকম সুগন্ধ তো আমি শুধু তোমার কাছেই পেয়েছিলাম!
তুমি শুনে খুশি হবে, তোমার এই অবর্তমানে আমি একটা সাথি বানিয়েছি। আর তা হলো, আকাশের ধ্রুবতারা। এই তারাটি আকাশের সপ্তর্ষির পাশেই থাকে। এতক্ষণ এই তারাটির সঙ্গেই আমার জমে থাকা কথাগুলো বললাম। ও মন দিয়ে শুনল। তুমি হয়তো আছ পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে। যেখানে আমি তোমাকে দেখতে না পেলেও আমার ধ্রুবতারা ঠিকই ওপর থেকে আমাদের দুজনকেই দেখতে পাচ্ছে। আমাদের মাঝে অন্তত একটা মিল তো আছেই। হাজার হোক তুমি আর আমি তো এক আকাশের নিচেই আছি!
আজ আকাশের ওই ধ্রুবতারাকে আমার উপস্থিতির সাক্ষী বানালাম! তুমি ভালো থেকো ধ্রুবতারার ওপাশে। ঈশ্বরের সযত্ন আমানতে তোমাকে রেখে দিলাম!
ইতি
কালপুরুষ!
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ
By (author) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের জীবনযাত্রা, কাজ করার এবং একের সঙ্গে অপরের সম্পর্কিত হওয়ার মৌলিক পদ্ধতিগুলো আমূল পরিবর্তন করে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনাগত দিক থেকে এটি মানব বিকাশের একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে পণ্য ও সেবার চাহিদা-নকশা, শিল্পোৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রিত করবে তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক অটোমেশন। বহু ধারার ফিউশন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ঘটমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বৈশিষ্ট্যগতভাবে জীবন ও ব্যবসার শারীরিক, ডিজিটাল ও জৈবিক ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে আশ্চর্যজনক সমন্বয় করবে, এদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনবে কিংবা কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্পর্কগুলো আরও জটিল ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে।
বাংলাদেশ কৃষি শ্রমিক, তৈরি পোশাকশিল্প শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিক দ্বারা চালিত অর্থনীতির দেশ। আমাদের অবকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, বৈদেশিক শ্রমবাজার ও সার্বিক কর্মসংস্থান—চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অটোমেশনে পড়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, এ উপলব্ধিগুলোই এই পুস্তকের মূল আলোচ্য। আমাদের শ্রমবাজারকে যুগোপযোগী ও কারিগরিভাবে দক্ষ করা, বর্তমানের অর্জনগুলোর চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নির্ণয়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নতুন কর্মসংস্থান সম্ভাবনা আবিষ্কার, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল তৈরি, অবকাঠামো তৈরির চ্যালেঞ্জ নেওয়া এবং একটা কর্মসংস্থানমুখী টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়া—এই পুস্তকের পর্যালোচনার বিষয়।
নতুন প্রযুক্তিগুলোর প্রয়োগ কীভাবে শ্রমবৈষম্য ও আর্থসামাজিক ঝুঁকি হ্রাস করবে, মানবিক মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করবে—জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন উপলব্ধি তৈরির গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে এই পুস্তকে।
চন্দ্রগ্রহণ
চন্দ্রভানুর পিনিস
চন্দ্রমুখী
চন্দ্রমুখী
By (author) আশীফ এন্তাজ রবি
ঘুম নিয়ে ফরিদের বিচিত্র সমস্যা আছে।
তার ঘুম কখনোই সময়মতো ভাঙে না। সকাল নয়টায় অফিস। সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পড়া উচিত, কিন্তু কখনোই সেটা হচ্ছে না। এই সমস্যা মোকাবেলায় ফরিদ মোবাইলে বিশেষ ধরনের এলার্ম সেট করেছে। খুবই বিকট স্বরের একটা এলার্ম। ফরিদের ধারণা, ঘুমন্ত মানুষ তো বটেই, এই এলার্মের শব্দে মিশরের মমি পর্যন্ত উঠে বসবে। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না।
ছুটির দিনের কথা অবশ্য ভিন্ন। এ সময় এলার্ম ঘড়ি বন্ধ রাখা হয়। রহস্যময় কারণে, ছুটির দিনে ফরিদের ঘুম ভাঙে অতি প্রত্যুষে। হালকা নিদ্রাভঙ্গ নয়। পরিপূর্ণভাবে জেগে ওঠা, শরীরে এক বিন্দু ক্লান্তি থাকে না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করেও সেই ঘুমকে আর ফেরানো যায় না। ছুটির দীর্ঘ সকাল কাটানো দুরুহ হয়ে পড়ে।
আজ ছুটির দিন নয়। তবু কাকডাকা ভোরে ফরিদের ঘুম ভেঙে গেল। আকাশ পুরোপুরি আলোয় ভরে উঠেনি। আবার অন্ধকারও পুরোটা বিদায় নেয়নি। মনে হচ্ছে, আলো এবং অন্ধকার পরস্পর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। কে সম্পূর্ণ পৃথিবী দখল করে নেবে, এই নিয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত।
চন্দ্রমুখী এই দ্বিধাময় সময়ের গল্প। আলোর গল্প, অন্ধকারের গল্প এবং আলো ও অন্ধকারের অসম লড়াইয়ের গল্প।