লিমনোলজি
লিরিকসমগ্র
লুঙ্গি কাহিনি
লুঙ্গি কাহিনি
By (author) অরূপ রাহী
লাইফস্টাইলের আলাপ কেন এবং কীভাবে খোদ জীবনব্যবস্থার আলাপ, সে প্রশ্ন চলমান জুলুমশাহি স্বাভাবিকতায় অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক বা ‘গম্ভীর’ আলাপ। কিন্তু এই আলাপ না করে জীবনযাপন কতখানি ‘অর্থপূর্ণ’ হয়? জীবনের ‘অর্থ’ কী? জীবনের অর্থ, ধারা ও বিন্যাস কীভাবে বিরচিত হয়? এসবের সঙ্গে তত্ত্ব-সাধনা-অনুশীলনের কী সম্পর্ক? ‘লুঙ্গি কাহিনি’ এসব প্রশ্ন এবং বিবেচনার এক আখ্যান। রচনারূপ, সামাজিক-ঐতিহাসিক দালিলিকতার গুরুত্ব এই বইয়ের ‘আদর্শ’ সংস্করণ প্রকাশের কারণ। বইয়ের রচয়িতা ফকির অরূপ রাহী আলোচিত বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভাবুক ও তাত্ত্বিক।
লেখক হওয়ার পথে
লেখক হওয়ার পথে
By (author) আফসানা বেগম
লেখালেখি নিয়ে বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি ও সাংবাদিকের নিজেদের ভাবনার জগতের একটি ছবি পাওয়া যাবে এই বইয়ে। কী করে তারা লেখার জগতে চলে এলেন, লিখতে গিয়ে কোন বিষয়গুলো তাদের নজরে এল, কী ধরনের সমস্যায় পড়লেন— এমন অনেক দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কত অসাধারণ ব্যাপারটি হয় যদি ভাবেন, পাঠক হিসেবে আপনি একটি ক্লাসে গেছেন যেখানে জর্জ অরওয়েল জানাচ্ছেন, তিনি কেন লেখেন; বার্ট্রান্ড রাসেল কী করে লেখেন, তার বর্ণনা করছেন; ভি এস নাইপল বলছেন, কী করে তিনি লেখক হয়ে উঠলেন; ফ্র্যাঙ্ক ও’কনর জানাচ্ছেন, ছোটগল্প তার চোখে কী ধরনের শিল্প; ভার্জিনিয়া উলফ বলছেন, সেই শিল্পের শিল্পনৈপুণ্য নিয়ে; নাদিন গোর্ডিমার সেখানে লেখকের স্বাধীনতার সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ করছেন; টোনি মরিসন বোঝাচ্ছেন লেখায় পূর্ব প্রজন্মের ভূমিকা; ডি এইচ লরেন্স আমাদের প্রিয় ক্ষেত্র উপন্যাসের গুরুত্ব বর্ণনা করছেন; কার্লোস ফুয়েন্তেস জানাচ্ছেন, বিশ্বসাহিত্যে সেই উপন্যাসেরই মহিমার কথা; জাঁ পল সার্ত্রে পাঠকের পড়ার সঙ্গে লেখকের লেখালেখির চমৎকার সম্পর্কটি উপস্থাপন করছেন আর ইতালো ক্যালভিনো নিরূপণ করছেন, লেখকের লেখালেখিতে রাজনীতি প্রভাব ফেলবে নাকি ফেলবে না। কল্পিত সেই সমাবেশের এগারোজন বিশ্বখ্যাত লেখকের উল্লিখিত বিষয়ের প্রবন্ধগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলো এখানে।
লেডি
লেলিহান লেখাজোকা
লোক প্রশাসনের তাত্ত্বিক প্রসঙ্গ
লোরকা নির্বাচিত কবিতা
ল্যাবরেটরি
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস: আঙ্গিক বিচার
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস: আঙ্গিক বিচার
By (author) কুদরত-ই-হুদা
কুদরত-ই-হুদা প্রধানত সমালোচনা লেখেন এবং সমালোচনায় তিনি সাহিত্যরস উদ্যাপন করেন। তাঁর গদ্যে সেই ব্যক্তিগত আস্বাদনের স্পর্শ সঞ্চারিত হতে থাকে, পাঠককেও সেই স্বাদে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস নিয়ে তাঁর এই কাজে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বন্ধন আছে। বন্ধনের যুক্তির সাথে মিশেছে গদ্যের আর ভঙ্গির মুক্তি। হুদা আঙ্গিকের বিচার করতে গিয়ে বিষয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেননি; বরং রূপের কারসাজিতেই থিম বিশেষভাবে মূর্তিমান হয়— এ সত্য উপন্যাসগুলোর আলোচনায় বারবার পরীক্ষিত হয়েছে।
বাংলাদেশের উপন্যাসের মানচিত্রে এই দুই ঔপন্যাসিকের যথাযোগ্য স্থান-নির্দেশ আর অনেকগুলো উপন্যাসের বিশদ আলোচনা নিয়ে কুদরত-ই-হুদার এই গ্রন্থ আমাদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা বলেই বিবেচিত হবে।
মোহাম্মদ আজম
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শক্তিমান বর্তমান
শক্তিমান বর্তমান
লেখক: একার্ট টোলে
রিভিউ:
শক্তিমান বর্তমান (The Power of Now) একার্ট টোলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী আত্মউন্নয়নমূলক বই, যা আজকের মানুষের ব্যস্ত, হতাশাগ্রস্ত ও অস্থির জীবনে এক অমূল্য দিশারী হিসেবে কাজ করে। বইটি একটি গভীর দার্শনিক যাত্রার মতো, যেখানে লেখক আমাদের প্রতিদিনের চিন্তা, মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং অনুভূতির প্রতি নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ই একমাত্র সত্যি, আর যদি আমরা এই "শক্তিমান বর্তমান"কে উপলব্ধি করতে পারি, তবে জীবনের সমস্ত দুঃখ, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে।
বইটি মূলত শিখায় কীভাবে আমরা আমাদের মনের অস্থিরতা এবং অতীত-ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারি এবং শুধুমাত্র বর্তমানের মধ্যে থাকা, অর্থাৎ “এখন এবং এখানে” (the now) জীবনযাপন করতে পারি। একার্ট টোলে বইটিতে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ধারণা, বুদ্ধের শিক্ষা এবং আধুনিক মনস্তত্ত্বের বিভিন্ন মূলনীতি একত্রিত করেছেন। তিনি আমাদের বুঝিয়ে দেন, আমাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বেশিরভাগ সময় আমাদের মনের উৎপাদন, যা প্রকৃত পৃথিবী বা বাস্তবতা থেকে আলাদা। আমাদের সচেতন মন যখন অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে চলে যায়, তখন আমরা বর্তমানের শক্তিকে মিস করি।
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু:
শক্তিমান বর্তমান আমাদের শেখায়, যতক্ষণ না আমরা এখনকার মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জীবনে সত্যিকারের শান্তি, আনন্দ বা পূর্ণতা আসবে না। টোলে মনে করেন, আমাদের মনের অস্থিরতা, চিন্তা এবং উদ্বেগ প্রাকৃতিক নয়—এগুলো আমাদের নিজেদের সৃষ্ট। তিনি পদ্ধতি এবং অনুশীলনগুলি পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে আমরা এই চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। বইটির বেশিরভাগ অংশই এই "এখন এবং এখানে" থাকার গুরুত্ব এবং উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।
শৈলী ও ভাষা:
টোলের লেখার শৈলী খুবই সরল, কিন্তু তার বিষয়বস্তু গভীর। তিনি জটিল দার্শনিক ধারণাগুলো খুবই সহজ এবং স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্যও বোঝা সম্ভব। তার ভাষার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের নিরবতা এবং শান্তি, যা বইটির পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকর এবং শান্তিপূর্ণ করে তোলে। বইটি কোন জটিল থিওরি বা শিক্ষার খাতা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার গল্প, যেখানে পাঠককে নিজের ভেতরের শান্তির উৎস খুঁজে বের করার জন্য আহ্বান করা হয়।
প্রভাব এবং প্রাসঙ্গিকতা:
এই বইটির প্রভাব বিশ্বব্যাপী গভীর। একার্ট টোলে তার কাজের মাধ্যমে আধুনিক জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, এবং অবিশ্বাসের মাঝেও শান্তি খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি দেখিয়েছেন। আজকের দ্রুতগতি সমাজে, যেখানে মানুষের জীবনে অসংখ্য সমস্যা, চাপ এবং দুশ্চিন্তা রয়েছে, বইটি এক নতুন চিন্তার দরজা খুলে দিয়েছে। শক্তিমান বর্তমান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যদিও বাইরের পৃথিবী অস্থির এবং অস্থির, তবে আমাদের অন্তরজগতের শান্তি শুধুমাত্র বর্তমান মুহূর্তে থাকতে পারার মধ্যে নিহিত। এই ধারণাটি, বর্তমান সমাজে, বিশেষত তরুণদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যারা নিজের চিন্তা এবং অনুভূতির প্রতি অনেক বেশি জড়িত থাকে।
উপসংহার:
শক্তিমান বর্তমান বইটি একার্ট টোলের অসামান্য কর্ম এবং আধুনিক আত্মউন্নয়ন সাহিত্যে একটি ক্লাসিক। এটি আপনাকে শুধু মানসিক শান্তির পথই দেখাবে না, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পূর্ণতা এবং গভীরতায় পূর্ণ করবে। যারা নিজের জীবনের চাপ, উদ্বেগ এবং শূন্যতাকে দূর করতে চান, তারা এই বইটি পড়ার মাধ্যমে বর্তমানের শক্তিকে উপলব্ধি করতে পারবেন। এটি এক আত্মবিশ্লেষণ এবং আত্মউন্নয়নের অসাধারণ যাত্রা, যা জীবনে শান্তি, সুস্থতা এবং একতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে সহায়তা করে