রচনাসমগ্র-২ (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
রচনাসমগ্র-৩ (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
রচনাসমগ্র-৪ (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
রণদাপ্রসাদ সাহা জীবন ও সাধনা
রবিন্দ্রনাথ ও তাঁর শিক্ষাভাবনা
রবীন্দ্র সাহিত্যে কিশোর কিশোরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ল্যাবরেটরি’ গল্পে আধুনিকতার ছাপ
রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য ও নৃত্যকলা
রবীন্দ্রসৃজনে বাংলাদেশ
রবীন্দ্রসৃজনে বাংলাদেশ
By (author) রাফাত মিশু
সৃজনশীল প্রতিভা উজ্জীবিত হয় স্থানকালের সন্নিপাতে। চেতনা যেহেতু বস্তুরই উন্নত ও সম্প্রসারণশীল রূপ, তাই তা জড়িয়ে থাকে বস্তুজগতের চতুর্মাত্রায়। সেই মাত্রায় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকে সময়। বস্তুজগৎ, মানুষ ও তার কর্মপ্রবাহ-মনস্তত্ত্ব-বাসনা সেই সম্পৃক্তায়নের মৌল প্রাণতা। রবীন্দ্রনাথ সৃজনাবেগে চঞ্চল, ক্রিয়ামুখর ও জীবনঘন হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের পতিসর-শাহজাদপুর-শিলাইদহে এসে। তাঁর জনজীবনাভিজ্ঞতা, ভূপ্রকৃতি আর কৃষি সাংস্কৃতিক প্রাণপ্রবাহটি উচ্ছলিত হয়েছিল এই বঙ্গে বসবাসের সূত্রে এবং তাঁর চেতনা থেকে ঘুচে গিয়েছিল কলকাতার বাবু-কালচারের ক্ষয়-ক্ষতি, ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি-শিক্ষার সংকট ও জটিলতা। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের আগমন ও দশকব্যাপী বসবাস একদিকে তাঁকে করেছে সৃষ্টিমুখর, উৎসার ঘটিয়েছে প্রকৃতির গহনে-সৌন্দর্যে অবগাহনের ফল্গুধারার। তিনি বিশ্বজাগতিকতাকেও এখানে এসেই নিজ অনুভবে-বোধে জারিত করতে পেরেছিলেন। রবীন্দ্রসৃজনে বাংলাদেশ এই নাতিপরিসর গ্রন্থটির রচয়িতা তরুণ লেখক রাফাত মিশুর আবেগঘন বিশ্লেষণধর্মী একটি কাজ। তিনি ছিন্নপত্র, সোনার তরী-চিত্রা-চৈতালি কাব্যত্রয় এবং ‘রবীন্দ্রগল্পে বাংলাদেশের চার প্রকৃতিকন্যা’ নিয়ে অনুপুঙ্খ ব্যাখ্যায় উন্মোচন করতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথের শিল্পদর্শন, জীবনবোধ, নারী-মনস্তত্ত্ব এবং এসবের পরিপ্রেক্ষিতরূপে তৎকালীন বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক রূপবর্ণিল প্রাণশক্তিকে। রবীন্দ্রনাথ যে নিছক প্রকৃতিমুগ্ধতায় অবসিত না হয়ে তার মধ্যে কর্মপ্রবাহ ও নারীমনকে আবিষ্কার করতে পেরেছেন, তা গ্রন্থকার উন্মোচন করতে সমর্থ হয়েছেন। ‘গীতাঞ্জলির বিরহদর্শন’-এর মতো দার্শনিক-সাঙ্গিতিক জটিল বিষয়ও এখানে সন্নিবেশিত। তদুপরি লেখক অন্নদাশঙ্কর রায়ের আর্ট ভাবনার ব্যাখ্যায় ক্ষীণভাবে হলেও রবীন্দ্রশিল্পভাবনার সূত্র গেঁথেছেন। গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ও তথ্য-উপাত্তে সমৃদ্ধ। এই তরুণ লেখকের রবীন্দ্রবীক্ষার প্রারম্ভবিন্দুরূপে রবীন্দ্রসৃজনে বাংলাদেশ গ্রন্থটি সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
—অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রমজানের সওগাত
লেখক : মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী
প্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
বিষয় : ইবাদত ও আমল, সিয়াম, রমযান, তারাবীহ ও ঈদ
পৃষ্ঠা : 176, কভার : পেপার ব্যাক, সংস্করণ : 1si Published, 2023
আইএসবিএন : 978-984-96584-6-7
রমজান মাস ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এটাই সর্বোত্তম সময়। এই মাসকে যথাযথরূপের কাজে লাগালে যেমন মহাসাফল্য অর্জন করা যায়, তেমনি এই সুযোগ হাতছাড়া করারও রয়েছে নিন্দিত তিরস্কার। প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য রমজানের বরকতময় সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করা। তবে এর জন্য প্রয়োজন রজব ও শাবান মাস থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ। রমজানের সওগাত বইটি রমজানের সর্বোত্তম প্রস্তুতি গ্রহণে আপনাকে বিশ্বস্ত সঙ্গীর ন্যায় সহযোগিতা করবে। এতে সুবিন্যস্তভাবে আলোচিত হয়েছে রজব ও শাবানে রমজানের পূর্বপ্রস্ততি, রোজার প্রয়োজনীয় বিধিবিধান, ফাজায়েল, তারাবির নামাজ, ইতেকাফ, জাকাত ও ফিতরা, দুই ঈদের নামাজসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ইবাদতের বিবরণ। এবারের রমজান আপনার জন্য সার্থক ও সুন্দর হোক!
রম্যভূমি রামুর ইতিহাস
রম্যভূমি রামুর ইতিহাস
By (author) আলম তৌহিদ
রম্যভূমি রামুর ইতিহাস বইটি একটি ভিন্ন ধারার ইতিহাসের আখ্যান, যা শুধুমাত্র ঐতিহাসিক তথ্য বা ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং এক ধরনের রম্যরসে ভরা গল্পের মাধ্যমে রামুর ইতিহাসকে বর্ণনা করেছে। আলম তৌহিদ লেখার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রতি সাধারণ পাঠকদের আগ্রহ সৃষ্টি করার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
বইটির মূল ভাবনা এবং রচনাশৈলী খুবই অভিনব। লেখক রামু, একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সংস্কৃতির স্থান, যেটি অনেক সময় হারিয়ে যায় বা অবহেলিত থাকে, সেই স্থানকে তাঁর লেখায় নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছেন। কাহিনীতে রামুর ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, মানুষের জীবনযাপন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে মিশে গেছে। রামু, বাংলাদেশের এক পরিচিত উপজেলা, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেকটাই চর্চা থেকে বাদ পড়ে গেছে—বইটি সে অঞ্চলের অতীতকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা।
শৈলী ও ভাষা:
লেখক তার শৈলীতে বৈচিত্র্যময়তা বজায় রেখেছেন। অনেক সময় তিনি ইতিহাসের গতি এবং প্রকৃতিকে রম্যভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা পাঠককে এক ধরনের মনোরঞ্জনমূলক আনন্দ প্রদান করে। লেখার ধরনটি এমন, যেন এক ধরনের কথকতার ভঙ্গিতে লেখক ঘটনাগুলো বর্ণনা করছেন, যা পাঠককে এক মজার ইতিহাসের ভেতর প্রবাহিত করে। তাছাড়া, বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে ইতিহাসকে আরো মানবিক এবং সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক, যা অনেক পাঠকের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
বিষয়বস্তু:
বইটির বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের ছোটো শহর বা গ্রামীণ অঞ্চলগুলোর ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি বিশেষ দিক নির্দেশক। রামুর ইতিহাসের মধ্যে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দিকের যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা এই বইটিতে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রামুর ইতিহাসের নানা অজানা দিক তুলে ধরতে গিয়ে লেখক প্রাচীন বাংলা ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বইটিকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
মন্তব্য:
যদিও বইটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে লেখা, তবুও লেখক তার লেখার মাধ্যমে ইতিহাসকে অত্যন্ত মজা এবং সহজে উপস্থাপন করেছেন। এই বইটি ইতিহাসের প্রতি সাধারণ আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম এবং এটি সেই পাঠকদের জন্য এক ধরনের আঞ্চলিক ইতিহাসের সংরক্ষণ হিসেবেও কাজ করে।
উপসংহার:
বইটি পাঠকদের জন্য ইতিহাসের এক নতুন এবং রম্য দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে। লেখক আলম তৌহিদ তার লেখনির মাধ্যমে রামুর ইতিহাসকে এমন এক আকর্ষণীয় আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন যা একই সঙ্গে শিক্ষণীয় এবং উপভোগ্য। ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী যেকোনো পাঠকই এই বইটি থেকে ভালো কিছু পাবেন।