লেখক হওয়ার পথে
লেখক হওয়ার পথে
By (author) আফসানা বেগম
লেখালেখি নিয়ে বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি ও সাংবাদিকের নিজেদের ভাবনার জগতের একটি ছবি পাওয়া যাবে এই বইয়ে। কী করে তারা লেখার জগতে চলে এলেন, লিখতে গিয়ে কোন বিষয়গুলো তাদের নজরে এল, কী ধরনের সমস্যায় পড়লেন— এমন অনেক দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কত অসাধারণ ব্যাপারটি হয় যদি ভাবেন, পাঠক হিসেবে আপনি একটি ক্লাসে গেছেন যেখানে জর্জ অরওয়েল জানাচ্ছেন, তিনি কেন লেখেন; বার্ট্রান্ড রাসেল কী করে লেখেন, তার বর্ণনা করছেন; ভি এস নাইপল বলছেন, কী করে তিনি লেখক হয়ে উঠলেন; ফ্র্যাঙ্ক ও’কনর জানাচ্ছেন, ছোটগল্প তার চোখে কী ধরনের শিল্প; ভার্জিনিয়া উলফ বলছেন, সেই শিল্পের শিল্পনৈপুণ্য নিয়ে; নাদিন গোর্ডিমার সেখানে লেখকের স্বাধীনতার সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ করছেন; টোনি মরিসন বোঝাচ্ছেন লেখায় পূর্ব প্রজন্মের ভূমিকা; ডি এইচ লরেন্স আমাদের প্রিয় ক্ষেত্র উপন্যাসের গুরুত্ব বর্ণনা করছেন; কার্লোস ফুয়েন্তেস জানাচ্ছেন, বিশ্বসাহিত্যে সেই উপন্যাসেরই মহিমার কথা; জাঁ পল সার্ত্রে পাঠকের পড়ার সঙ্গে লেখকের লেখালেখির চমৎকার সম্পর্কটি উপস্থাপন করছেন আর ইতালো ক্যালভিনো নিরূপণ করছেন, লেখকের লেখালেখিতে রাজনীতি প্রভাব ফেলবে নাকি ফেলবে না। কল্পিত সেই সমাবেশের এগারোজন বিশ্বখ্যাত লেখকের উল্লিখিত বিষয়ের প্রবন্ধগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলো এখানে।
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস: আঙ্গিক বিচার
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস: আঙ্গিক বিচার
By (author) কুদরত-ই-হুদা
কুদরত-ই-হুদা প্রধানত সমালোচনা লেখেন এবং সমালোচনায় তিনি সাহিত্যরস উদ্যাপন করেন। তাঁর গদ্যে সেই ব্যক্তিগত আস্বাদনের স্পর্শ সঞ্চারিত হতে থাকে, পাঠককেও সেই স্বাদে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস নিয়ে তাঁর এই কাজে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বন্ধন আছে। বন্ধনের যুক্তির সাথে মিশেছে গদ্যের আর ভঙ্গির মুক্তি। হুদা আঙ্গিকের বিচার করতে গিয়ে বিষয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেননি; বরং রূপের কারসাজিতেই থিম বিশেষভাবে মূর্তিমান হয়— এ সত্য উপন্যাসগুলোর আলোচনায় বারবার পরীক্ষিত হয়েছে।
বাংলাদেশের উপন্যাসের মানচিত্রে এই দুই ঔপন্যাসিকের যথাযোগ্য স্থান-নির্দেশ আর অনেকগুলো উপন্যাসের বিশদ আলোচনা নিয়ে কুদরত-ই-হুদার এই গ্রন্থ আমাদের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা বলেই বিবেচিত হবে।
মোহাম্মদ আজম
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শক্তিমান বর্তমান
শক্তিমান বর্তমান
লেখক: একার্ট টোলে
রিভিউ:
শক্তিমান বর্তমান (The Power of Now) একার্ট টোলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী আত্মউন্নয়নমূলক বই, যা আজকের মানুষের ব্যস্ত, হতাশাগ্রস্ত ও অস্থির জীবনে এক অমূল্য দিশারী হিসেবে কাজ করে। বইটি একটি গভীর দার্শনিক যাত্রার মতো, যেখানে লেখক আমাদের প্রতিদিনের চিন্তা, মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং অনুভূতির প্রতি নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ই একমাত্র সত্যি, আর যদি আমরা এই "শক্তিমান বর্তমান"কে উপলব্ধি করতে পারি, তবে জীবনের সমস্ত দুঃখ, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে।
বইটি মূলত শিখায় কীভাবে আমরা আমাদের মনের অস্থিরতা এবং অতীত-ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারি এবং শুধুমাত্র বর্তমানের মধ্যে থাকা, অর্থাৎ “এখন এবং এখানে” (the now) জীবনযাপন করতে পারি। একার্ট টোলে বইটিতে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ধারণা, বুদ্ধের শিক্ষা এবং আধুনিক মনস্তত্ত্বের বিভিন্ন মূলনীতি একত্রিত করেছেন। তিনি আমাদের বুঝিয়ে দেন, আমাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বেশিরভাগ সময় আমাদের মনের উৎপাদন, যা প্রকৃত পৃথিবী বা বাস্তবতা থেকে আলাদা। আমাদের সচেতন মন যখন অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে চলে যায়, তখন আমরা বর্তমানের শক্তিকে মিস করি।
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু:
শক্তিমান বর্তমান আমাদের শেখায়, যতক্ষণ না আমরা এখনকার মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জীবনে সত্যিকারের শান্তি, আনন্দ বা পূর্ণতা আসবে না। টোলে মনে করেন, আমাদের মনের অস্থিরতা, চিন্তা এবং উদ্বেগ প্রাকৃতিক নয়—এগুলো আমাদের নিজেদের সৃষ্ট। তিনি পদ্ধতি এবং অনুশীলনগুলি পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে আমরা এই চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। বইটির বেশিরভাগ অংশই এই "এখন এবং এখানে" থাকার গুরুত্ব এবং উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।
শৈলী ও ভাষা:
টোলের লেখার শৈলী খুবই সরল, কিন্তু তার বিষয়বস্তু গভীর। তিনি জটিল দার্শনিক ধারণাগুলো খুবই সহজ এবং স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্যও বোঝা সম্ভব। তার ভাষার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের নিরবতা এবং শান্তি, যা বইটির পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকর এবং শান্তিপূর্ণ করে তোলে। বইটি কোন জটিল থিওরি বা শিক্ষার খাতা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার গল্প, যেখানে পাঠককে নিজের ভেতরের শান্তির উৎস খুঁজে বের করার জন্য আহ্বান করা হয়।
প্রভাব এবং প্রাসঙ্গিকতা:
এই বইটির প্রভাব বিশ্বব্যাপী গভীর। একার্ট টোলে তার কাজের মাধ্যমে আধুনিক জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, এবং অবিশ্বাসের মাঝেও শান্তি খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি দেখিয়েছেন। আজকের দ্রুতগতি সমাজে, যেখানে মানুষের জীবনে অসংখ্য সমস্যা, চাপ এবং দুশ্চিন্তা রয়েছে, বইটি এক নতুন চিন্তার দরজা খুলে দিয়েছে। শক্তিমান বর্তমান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যদিও বাইরের পৃথিবী অস্থির এবং অস্থির, তবে আমাদের অন্তরজগতের শান্তি শুধুমাত্র বর্তমান মুহূর্তে থাকতে পারার মধ্যে নিহিত। এই ধারণাটি, বর্তমান সমাজে, বিশেষত তরুণদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যারা নিজের চিন্তা এবং অনুভূতির প্রতি অনেক বেশি জড়িত থাকে।
উপসংহার:
শক্তিমান বর্তমান বইটি একার্ট টোলের অসামান্য কর্ম এবং আধুনিক আত্মউন্নয়ন সাহিত্যে একটি ক্লাসিক। এটি আপনাকে শুধু মানসিক শান্তির পথই দেখাবে না, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পূর্ণতা এবং গভীরতায় পূর্ণ করবে। যারা নিজের জীবনের চাপ, উদ্বেগ এবং শূন্যতাকে দূর করতে চান, তারা এই বইটি পড়ার মাধ্যমে বর্তমানের শক্তিকে উপলব্ধি করতে পারবেন। এটি এক আত্মবিশ্লেষণ এবং আত্মউন্নয়নের অসাধারণ যাত্রা, যা জীবনে শান্তি, সুস্থতা এবং একতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে সহায়তা করে
শরবতে বাজিমাত
শরবতে বাজিমাত
By (author) Munir Hasan
নতুন কিছু করার জন্য সবসময় উদ্যোক্তার ওপর একটা চাপ থাকে। বলা হয়ে থাকে নতুন কিছু করতে পারলেই সাফল্য ধরা দেবে। তবে, কেবল নতুন কিছু নয়— প্রচলিত ব্যবসাকে ভিন্নভাবে করে গড়ে তোলা যায় সফল উদ্যোগ। যেমনটা করেছিলেন, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তিন বন্ধু রিচার্ড রীড, এডাম বেলন আর জন রাইট। ১৯৯৮ সালে তারা মাত্র ৫০০ পাউন্ড হাতে নিয়ে ইনোসেন্ট নামের শরবত কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ইউরোপের ১৩টি দেশে এখন ইনোসেন্ট বিক্রয় হয়। কোম্পানির বাজার দর মাত্র ১০ কোটি পাউন্ড (এক হাজার কোটি টাকার বেশি)!!! এর ৯০ ভাগের বেশি ওরা বিক্রি করে দিয়েছে কোকাকোলা কোম্পানির কাছে! প্রত্যেকে এখন প্রশান্ত মহাসাগরে ব্যক্তিগত দ্বীপের মালিক।
তারা তাদের কোম্পানি গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন একটি বইতে। ব্রিটিশদের সঙ্গে আমাদের মান-মানসিকতা ও সিস্টেমের অনেক মিল। সেজন্য দেখা যায়, আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের মতো তিন বন্ধু রাস্তাতে ঘুরেছেন মাসের পর মাস। ‘এসএমই বান্ধব ব্যাংকিং নীতিমালা’ থাকা সত্ত্বেও কোনো একটি ব্যাংক তাদের ফুটো কানাকড়িও দেয়নি। সবাই সারাক্ষণ তাদের কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করেছে “তোমাদের পদ্ধতিতে শরবত বানালে, তোমরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই ভাবে হয় না।”
হাজার হাজার ‘না’ কেমন করে অতিক্রম করেছেন এই তিন বন্ধু? কেমন করে শরবত তাদের আর্থিক মুক্তির পথ খুলে দিয়েছে? কেমন করে বিনা পূজিতে তারা মার্কেটিং করেছেন? কোন বুদ্ধিতে একটার পর একটা দেশে ব্যবসা বাড়িয়েছেন আবার নিজেদের প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলেছেন একটি চমৎকার সংস্কৃতি।
এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজা হয়েছে এই বইতে।
শামসুর রাহমান আল মাহমুদ: তফাৎ ও সাক্ষাৎ
শামসুর রাহমান আল মাহমুদ: তফাৎ ও সাক্ষাৎ
By (author) নাসির আলী মামুন
বাংলা সাহিত্যে অনেককে নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। হাল আমলে আলোচনা ও বির্তক হয় আমাদের দেশের দুই প্রধান কবিকে নিয়ে। শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ দুজনই সমসাময়িক কবি। কিন্তু মত ও পথ আলাদা। এই দুই কবির সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘকালের। শামসুর রাহমানকে আমি সম্বোধন করি ‘স্যার’। আর অতীতে বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও কিছু নীতিগত কারণে আল মাহমুদ থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কিন্তু শামসুর রাহমানের লেখা যেভাবে আমি গুরুত্ব সহকারে পাঠ করি, সেভাবে আল মাহমুদকেও পাঠ করি। আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ পোরট্রেট ফটোগ্রাফার নাসির আলী মামুন এই দুই কবিকে একসাথে বসিয়ে যে সাক্ষাৎপর্ব ঘটিয়েছেন তা বাংলা সাহিত্যে একটি বিরল ঘটনা বলে আমি শনাক্ত করি। মামুন শুধু দুই কবিকে এক করে সাক্ষাৎকার নিয়েই ক্ষান্ত হননি, সে তাদের দুজনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দূরত্বের কারণগুলো বের করে এনেছেন। শামসুর রাহমান আল মাহমুদ: তফাৎ ও সাক্ষাৎ বইটিতে বরেণ্য আলোকচিত্রী মামুন এমন সব তথ্য ও বক্তব্য দুই কবির বয়ান থেকে বের করে নিয়েছেন যার অনেক কিছু এই প্রথম আমরা অবগত হয়েছি। দুই কবির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা এখানে লিপিবদ্ধ আছে, যা পাঠকেদের টেনে নিয়ে যাবে শেষ পর্যন্ত। তাছাড়া মামুনের দীর্ঘদিনের তোলা বেশ কয়েকটি দুর্লভ আলোকচিত্র বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল ২০০৪ সালে। আর যে সময়ে বইটি প্রকাশিত হল তখন আমাদের মাঝে প্রিয় কবি শামসুর রাহমান নেই। তাঁকে আমরা নানাভাবে স্মরণ করব। এ বইটিও তেমন একটি আয়োজন। আমি নাসির আলী মামুন-এর এই বইটিকে বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলেও চিহ্নিত করতে চাই।
—বেলাল চৌধুরী
শিক্ষা-গবেষণার সহজপাঠ
শিক্ষা-গবেষণার সহজপাঠ
By (author) রায়হান আরা জামান, রিদওয়ানুল মসরুর
‘শিক্ষা উন্নয়নের চাবিকাঠি’ এ কথা কারও অজানা নয়। শিক্ষা নিয়ে গবেষণা শিক্ষার সময়োপযোগী পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংস্কারের মাধ্যমে পৃথিবী বদলে দিতে পারে। অথচ এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা হাতে গোনা, যাও-বা হচ্ছে গবেষণার বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের অভাবে ত্রুটিমুক্ত হতে পারছে না। অনেক খুদে শিক্ষাবিদের ভালো ভালো আইডিয়া গবেষণার তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা গবেষণা নিয়ে মানসম্মত বাংলা বইয়ের অভাব এর একটি বড় কারণ। ‘শিক্ষা গবেষণার সহজপাঠ’ বইটির মাধ্যমে লেখকদ্বয় সেই অভাব পূরণে উপযুক্ত কাজটিই করেছেন।
লেখকদ্বয় দুজনই আমার ছাত্র। ছাত্রজীবন থেকেই তাদের দুজনকে আমি চিনি। তাদের বিশেষ গুণ এই যে, তারা মেধাবী, উদ্যমী ও পরিশ্রমী। সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় শিক্ষা গবেষণার আদ্যোপান্ত নিয়ে এমন একটি সামগ্রিক বই লেখার মাধ্যমে তারা তাদের সেই স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছে।
দিবা হোসেন, পিএইচডি (শিক্ষা)
অধ্যাপক
বিশেষ শিক্ষা বিভাগ
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার মেরামত
শিক্ষার মেরামত
By (author) কামরুল হাসান মামুন
স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছর পার করল বাংলাদেশ। এই সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো হলেও উন্নতির খাতায় পিছিয়ে পড়ে আছে শিক্ষা। বাংলাদেশের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও অনুন্নত অনেক দেশও শিক্ষাক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না সেইগুলোর মান, বরং অনেকক্ষেত্রে মানটা নিম্নমুখী। বর্তমানে বাংলাদেশে পঁচিশ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে দশ কোটি। এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করার একমাত্র উপায় শিক্ষা। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা কি সক্ষম এই জনশক্তি রূপান্তরে? শিক্ষাব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনলে বাংলাদেশ পারবে একুশ শতক ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটা দক্ষ জনশক্তিনির্ভর দেশে পরিণত হতে?
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন তার লেখায় তুলে আনতে চেয়েছেন এই আলোচনাগুলোই। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সমস্যা এবং মেরামতের সম্ভাব্য পথ।
শূন্য থেকে পাইথন মেশিন লার্নিং: হাতেকলমে সাইকিট-লার্ন
শূন্য থেকে পাইথন মেশিন লার্নিং: হাতেকলমে সাইকিট-লার্ন
By (author) রকিবুল হাসান
শূন্য থেকে পাইথন মেশিন লার্নিং’ বইটি যেকোনো পেশার মানুষের জন্য লেখা। মেশিন লার্নিং ব্যাপারটা ‘কনসেপ্ট হেভি, কোড লাইট’। কম ‘কোড’, তবে কনসেপ্ট পরিষ্কার করে এগিয়েছে এ বইটি। আপনার সমস্যার দর্শন না বুঝলে সমস্যার ভেতরে যাওয়া দুষ্কর। কোড করা সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে ‘সমস্যা’ ঠিকমতো বোঝার।
আর সেই ধারণা থেকে হাতেকলমের কনসেপ্টে মেশিন লার্নিং নিয়ে বইগুলো লিখছেন আমাদের লেখক। ‘শূন্য থেকে পাইথন মেশিন লার্নিং’ পাইথন সিরিজের প্রথম বই। ‘টেনসর ফ্লো’ ও ‘ডিপ লার্নিং’ নিয়ে পরের বইটি বুঝতে সাহায্য করবে এই বই। মূল বইটি (গিটবুক থেকে যার শুরু, https://raqueeb.gitbook.io/scikit-learn/) থেকে প্রিন্ট এডিশনে ২৫ শতাংশের মতো কনটেন্ট এডিট বা যোগ হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। লেখকের কনসেপ্ট ‘রিড ফার্স্ট, বাই লেটার’-এর ফলে আপনি অনলাইনে বই পড়ে কেনার আইডিয়া করতে পারেন শুরুতেই।
ধারণা করছি একদম ‘জিরো’, মানে শূন্য অভিজ্ঞতা থেকে ডেটা সায়েন্সের পাইথন ও মেশিন লার্নিংয়ের শুরুটা শেখা যাবে এই বই থেকে। মেশিন লার্নিং ব্যাপারটা অনেক বিশাল হওয়ায় ‘ওভার হাইপড’ এই রাস্তায় আমরা যাতে পথ না হারাই সে কারণে এই বই। রাস্তা চিনে গেলে পেছনে ফিরে তাকানোর দরকার হবে না এ বিষয়ে। আর সেই রাস্তা চেনানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন এই বইয়ের ওপর। একদম হাতেকলমে। হাতেকলমে সিরিজের আগের বই ‘হাতেকলমে মেশিন লার্নিং’ বেসিক কনসেপ্ট তৈরিতে চমৎকারভাবে সাহায্য করলেও এই বইয়ের জন্য সেটা বাধ্যতামূলক নয়। যারা ডিপ লার্নিং শিখতে চান, তবে মেশিন লার্নিংয়ের ধারণা কম, তাদের জন্য সামনের ‘টেনসর ফ্লো দিয়ে পাইথন ডিপ লার্নিং’ বইয়ের জন্য এ বইটি একটা ভালো গেটওয়ে হতে পারে।
হ্যাপি পাইথন মেশিন লার্নিং!
শূন্য দিয়ে ভাগ করলে কী হয়?
শূন্য দিয়ে ভাগ করলে কী হয়?
By (author) অতনু রায় চৌধুরী, আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী, মুরসালিন হাবিব, রাহুল সাহা
এই বইটা কী? এককথায় বললে, এই বইটা হলো প্রশ্নোত্তরের একটা বই। এতে কিছু প্রশ্ন আছে। আর আছে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর। আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম এমন কিছু একটা লিখব, যেটাতে মানুষের মনে থাকা গণিতবিষয়ক সবচেয়ে কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর থাকবে। সেই ভাবনার ফলই হলো এই বইটা।
এ রকম একটা বই লেখার জন্য প্রথমেই যেটা লাগে, সেটা হলো প্রশ্ন। অনেক অনেক প্রশ্ন! তাই প্রশ্ন জোগাড় করার জন্য আমরা সাহায্য নিয়েছি গুগল ফর্মের। একটা পাবলিক গুগল ফর্ম দিয়ে আমরা সবাইকে বলেছি তাদের প্রশ্নগুলো জমা দিতে। আমাদের কাছে শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে মোট দুই শর মতো প্রশ্ন। সেই প্রশ্নগুলো নিয়েই হয়েছে বইটা।
‘শূন্য দিয়ে ভাগ করলে কী হয়?’, ‘1 কেন মৌলিক সংখ্যা না?’, ‘0⁰-এর মান কত?’— এ সব প্রশ্নের উত্তর আছে বইটাতে। আরও আছে বেশ অদ্ভুত কিছু প্রশ্নের উত্তর। যেমন ‘কোনো ফাংশনের ইনভার্স বের করার সাথে কম্পিউটারের অক্ষমতার সম্পর্ক কী?’ কিংবা ‘পাইয়ের অঙ্কগুলোর মধ্যে বিশ্বের সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কি না?’। বইটির জন্য আমরা যেসব প্রশ্ন মানুষের কাছ থেকে পেয়েছি, তার প্রায় প্রত্যেকটাই চমৎকার!
আমরা আশা করি, বইটি লিখতে গিয়ে আমরা যে পরিমাণ আনন্দ পেয়েছি, পাঠকরাও পড়ার সময় কম করে হলেও ততখানিই আনন্দ পাবেন।
— অতনু, মুরসালিন, রাহুল আর জাওয়াদ
শৈশব সমাচার
শৈশব সমাচার
By (author) সাবরিনা মাহমুদ
শৈশব-সমাচার অর্থাৎ শৈশবকে প্রাণবন্ত ও প্রাঞ্জল করার ইতিবাচক বার্তাগুলো পাঠকের কাছে তুলে ধরাই বইটির উদ্দেশ্য। সর্বোপরি শৈশবের মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করেই বইটি রচিত হয়েছে।
বইটির মাধ্যমে শিশুর বয়স অনুযায়ী বিকাশের বিভিন্ন স্তর, প্রতিটি স্তরে অভিভাবকের করণীয় দিকনির্দেশনা এবং প্রাত্যহিক জীবনে শিশুদের নিয়ে আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হই, সেগুলো সমাধানের সহজ কৌশল মনোবৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে বিভিন্ন অনুশীলন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সবার বোধগম্য করার চেষ্টা করেছি। শিশুকে তার নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে অভিভাবকদের যেসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সে ব্যাপারে বইটির কৌশল বড়দের অবশ্যই সহায়তা করবে।
বইটি পড়ে পেশাদার মনোবিজ্ঞানী, এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর, মা-বাবা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অভিভাবক, শিক্ষকসহ তরুণ-তরুণীরাও উপকৃত হবেন। কারণ বইটির মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। আর নিজের মধ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, তখন অন্যরাও প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন।
শ্রেষ্ঠ কবিতা
শ্রেষ্ঠ কবিতা
By (author) আল মাহমুদ
বাংলা কবিতায় আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠত্ব আজ আর অস্বীকার করার উপায় নেই। সমালোচকদের চোখে আল মাহমুদ জীবনানন্দ দাশ-পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী কবি। প্রায় ৬০ বছরের কবিজীবনে দুহাতে লিখেছেন। তার অধিকাংশ কবিতাই কালোত্তীর্ণ—স্বমহিমায় ভাস্বর।
তার প্রকাশিত প্রায় ২৫টি কবিতা ও ছড়াগ্রন্থ থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতা বাছাই করা বেশ দুরূহ কাজ। সাধারণ পাঠকের কাছে তার সব কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা বলে বিবেচিত হতে পারে। কবিতার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ অভিধাটিই বিতর্কিত এবং কবির জন্য বিব্রতকরও বটে। তবুও সবকিছুর মতো কবিতারও মূল্যায়নে আসতে হয়।
কোনো কিছুর মানদণ্ড নির্ধারণে—হোক তা কবিতা বা শিল্পকলা—কে নির্ধারণ করছেন, কিসের মানদণ্ডে নির্ধারণ করছেন—তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় মাথায় রেখেও বর্তমান গ্রন্থে আল মাহমুদের সমগ্রতা ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আল মাহমুদ কেন বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কবি—এ জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের আধুনিকতাবাদী কাব্যরুচি থেকে বের হয়ে নতুনভাবে আল মাহমুদকে আবিষ্কার করতে হয়েছে। বর্তমান গ্রন্থটি এ আবিষ্কারেরই স্মারক।
শ্রেষ্ঠ গল্প
শ্রেষ্ঠ গল্প
By (author) আল মাহমুদ
তত দিন আল মাহমুদ কবি হিসেবেই খ্যাত ছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত বের হওয়ার পরপরই বাংলা সাহিত্য আরেকটি ঝাঁকুনি খায়। সমকালীন লেখক, পাঠক ও সমালোচকেরা নড়েচড়ে বসেন। তার প্রথম গল্পগ্রন্থের পানকৌড়ির রক্ত ও জলবেশ্যা তো আজতক বাংলা সাহিত্যে এক ও অদ্বিতীয়ম। অনুভূতির এমন উত্তুঙ্গতা, ঘটনার এমন অভিনবত্ব, নির্মিতির এমন চমৎকারিত্ব বাংলা সাহিত্য আর দেখেনি।
প্রখ্যাত কথাশিল্পী আবু রুশদ মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশে আল মাহমুদের সমতুল্য অন্য কোনো কবির হাত থেকে এত কয়টি ভালো গল্প বেরিয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটা তার সাহিত্যিক গুরুত্বে ঈর্ষণীয় এক মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
ষাটের দশকে কথাশিল্পী আল মাহমুদের গদ্যের প্রশংসা করে কবি জসীমউদ্দীন এক চিঠিতে তাকে লিখেছিলেন, ‘…একটি কথা তোমাকে বলব, তোমার গদ্য লেখার বেশ ভালো ক্ষমতা। এদিকটা যদি আরও অনেকখানি প্রসারিত কর…।’ জসীমউদ্দীনের আশা বৃথা যায়নি—এ কথা আজ খুব জোরের সঙ্গেই বলা যায়।
বর্তমান সংকলনটিতে সাহিত্যিক বিচেনায় যেসব গল্প ‘শ্রেষ্ঠ’ পদবাচ্য তার বাইরে গিয়েও একটি জনগোষ্ঠীর মাটি ও মানুষের গাল্পিক আল মাহমুদকে আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ আবিষ্কার কতটা সার্থক হয়েছে, সে বিবেচনা পাঠকের।