মুখোমুুখি
মুখোমুুখি
By (author) নূরুল হুদা
খুব বেশি আড়াল ছাড়াই তিনি উত্তর দিয়েছেন। বিশ ও একুশ শতকের যে সংকট, সাহিত্যতত্ত্ব, যান্ত্রিক বিবর্তন সবই প্রশ্নে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যেতে চাননি। কারণ সাহিত্যের উৎসমূলে সেগুলো দারুণ কার্যকরী। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য পুরাণের তিনি এক বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যের ক্ষেত্রে, শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণ ও পাঠদানে যেহেতু তিনি সিদ্ধহস্ত ইংরেজি সাহিত্যে, অনুবাদ কর্মে যেহেতু তার রয়েছে অবাধ বিচরণ, সেহেতু এ সাক্ষাৎকারটি কেবল কবি মুহম্মদ নূরুল হুদাকে জানার জন্যই উপযোগী নয়, সাহিত্যের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ ও প্রয়োগে কাজে আসবে।
এই বইয়ের সাক্ষাৎকারগুলোর কিছু বেশ পদ্ধতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, একটি কালোত্তীর্ণতার দিকে যাত্রার প্রবণতা আছে এবং কবিও তার বিশ্বাস ও বাকবিদগ্ধতার সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নগুলোর। একার্থে বলা চলে, চালাকি কিংবা কিতাবি করার তাগিদ ছিল না কোনো পক্ষ থেকেই। সাহিত্যের প্রয়োজনেই গড়ে উঠেছে সাক্ষাৎকারগুলো। এটি ভালো যে সাক্ষাৎকারগুলো তার কবিতার মতো ইঙ্গিত ও প্রতীকী না হয়ে যৌক্তিক সারল্যের ওপর দাঁড়িয়েছে।
মুনির হাসানের সাতটি বই
মুনির হাসানের সাতটি বই
By (author) Munir Hasan
মুনির হাসানের জন্ম চট্টগ্রামে। পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি, মুসলিম হাইস্কুল ও চট্টগ্রাম কলেজ। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাস করে দীর্ঘদিন সেখানেই কর্মজীবন— পরে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদিতে কাজ করেছেন।
দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান-লেখক ও বিজ্ঞানকর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন এবং এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৫-৯৮ সালে ভোরের কাগজ এবং ১৯৯৮ সাল থেকে অদ্যাবধি দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞান ও গণিতবিষয়ক ফিচার পাতার সম্পাদনা
মুসলিম দুনিয়ার ক্ষমতা সম্পর্কের ইতিহাস জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা
মুসলিম দুনিয়ার ক্ষমতা সম্পর্কের ইতিহাস জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা
By (author) পারভেজ আলম
ধর্ম যার যার, ব্যবসা সবার! বিশ্বব্যাপী এই ভয়াবহতার শিকার মানবজাতি, যার আর নাম মহাজনগণ। বেনিয়ার অবাধ বানিজ্য বিপ্লব, সাম্রাজ্যের সম্ক্রসারণ এবং দেশে দেশে অনাহুত সামরিক হস্তক্ষেপ এই ভয়াবহতার নেপথ্য কারন। এই উপলদ্ধি চিত্তে দৃঢ় করতে না পারলে বঞ্চিত লাঞ্ছিত মহাজনগণের সাথে হূদয়বৃত্তির যোগ হবে না, শোষিতের দীর্ঘশ্বাস মরমে পশিবে না।
সাম্ক্রতিক দশক গুলোয় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ তার সম্ক্রসারণের উসিলা পরিবর্তন করেছে। সমাজতন্ত্র থেকে ইসলামে এই পরিবৃত্তি তথা ক্রুসেডের উত্থান একবিংশ শতকে জিহাদ ও খেলাফত প্রপঞ্চদ্বয়ের ঐতিহাসিক পূনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের প্রতিপ্রশ্নেই এই পূনর্জাগরণ, ইহা অনস্বিকার্য।
সাম্রাজ্যবাদের রোপিত এই বিক্ষোভে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু রাষ্ট্র তার ভারসাম্য হারিয়েছে। অন্তর্গত জনগণ অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। অধুনা গোদের উপর বিষফোড়ার মতো জন্ম নিয়েছে খেলাফত রাষ্ট্র। এই বিক্ষোভ সাম্রাজ্যবাদের আপন ঘরে সিদ কাটতেও সময় নেয় নাই। আর উলুখাগড়ার মতো নির্বিচারে বলি হয়েছে মহাজনগণ।
জিহাদ ও খেলাফত এমন দুটি প্রপঞ্চ যার উত্তেজনা আমাদের সমাজেও ক্রমবর্ধমান। বিশ্বব্যাপী এই উত্তেজনার অংশীদার মহাজনগণ। যে মানুষ এই উত্তেজনার বলি সেও মহাজনগণের অংশ। তাই এই প্রপঞ্চদ্বয়ের ইতিহাস যে বিভিন্ন সাপেক্ষ প্রকল্পের আওতাধীন তা অনুধাবন করা এখন সময়ের দাবি।
ইতিহাস বরাবরি কোন না কোন প্রকল্পের অধীন। তাই একটি নিরাবেগ নিরাসক্ত জায়গা থেকে ইতিহাসকে দেখতে হলে নিষ্ঠার প্রয়োজন। ঐতিহাসিক বিকাশ ও বিবর্তনের পর্বসমূহে ক্রিয়াশীল প্রকল্পগুলোর সামাজিক রাজনৈতিক বাতাবরণকে শনাক্ত করতে পারা ইতিহাস পাঠের সদা সচেতন শর্ত। সাথে সাথে ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের সামাজিক পরিক্রমার সম্কর্ক অনুধাবনও জরুরি।
সারাৎসারে ‘জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা’ এই অনুধাবনেই সচেষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্রিয় সংহতি অটুট রাখার স্বার্থেই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় উত্তেজনার মাঝে এ প্রচেষ্টার সঞ্চালন সমাজের সর্বস্তরেই প্রয়োজন। কারন কথা ছিল ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার হবে।
মেয়েটি জিহাদে গিয়েছিল
মেয়েটি জিহাদে গিয়েছিল
By (author) তন্ময় ইমরান
খুন হওয়ার আগে একজন কী ভাবছে? একদল তরুণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেওয়ার পর কী করছে? একজন মানুষ সোশাল মিডিয়ায় একটা মেয়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে কী নিয়ে আলাপ করছে? প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও একজন প্রেমিক তার প্রেয়সীর বাড়িতে কেন যাচ্ছেন? একটি বাড়ির বারান্দায় কেন শিশুর লাল জামা ঝোলে, অথচ তাদের দেখা যায় না? বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে যাওয়ার পরও কেন একটি মাত্র দরিদ্রদের গ্রাম থেকে যায়? বেতন না হওয়ার মাসে একজন মধ্যবিত্তের কী হয়? মুক্তিযুদ্ধে একজন যোদ্ধা বিল সাঁতরানোর পর কি হয়েছিল? একটি জনপদের সবাই উঁকুন আক্রান্ত কেন হল? মানুষগুলো হারিয়ে কোথায় যায়? জীবনে প্রথম যৌনতার স্বাদ কেমন ছিল?…
এরকম ঊনচল্লিশটি ছোট গল্প নিয়ে ‘মৃত্যু ও মিডিয়া এক্সপোজার’। লেখক গ্যারান্টি দিচ্ছেন, ৯৫ ভাগ গল্পের দৈর্ঘ্য এক হাজার শব্দের নিচে।
দুই বছর পর ফারিন যোগাযোগ করা বন্ধু মাহমুদ ইমরানের সাথে। মাহমুদ তখন নিজের বিয়ে বিচ্ছেদের কারণে নিজের থেকে পালাতে আত্মজীবনী লেখায় ব্যস্ত। এভাবেই শুরু ‘মেয়েটি জিহাদে গিয়েছিল’ উপন্যাসটি।
ইসলামি তত্ত্ব, ইতিহাস, মিথ, কোরআন ও হাদিস এবং সমসাময়িক খেলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে লেখা উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে অসংখ্য চরিত্র। উপন্যাসে নবী মুহাম্মদের স্ত্রী আয়েশা, মধ্যযুগের দাসী কবি লুবনা অব কর্ডোভা, কোরআনে উল্লেখিত নবী জুলকার নাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ, ইমাম মাহাদি ও দাজ্জাল, সুফি শাহ জালাল ও শাহ পরান, ভারতবর্ষের প্রথম মুসলিম তাজউদ্দীনসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক চরিত্র বর্তমান ও নিকট অতীতের চরিত্রগুলোর সাথে মিলেমিশে তৈরি করেছে নতুন গল্প।
পুরো উপন্যাস জুড়ে মিথ, ইতিহাস এবং চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অসংখ্য টুকরো গল্প বলা হয়েছে। একদিকে মাহমুদের আত্মজীবনীতে যেমন এসেছে তার পরিবার, পল্লীকবি জসীম উদ্দীন, ঢাকা শহর ও সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলন, পরিবেশ আন্দোলন— অন্যদিকে ফারিনের গল্পের মধ্য দিয়ে এসেছে ‘জিহাদি’ তৎপরতা, একটা গ্লামারাস ঝকঝকে জীবন ও যৌনতা।
মেয়েদের এমন হয়
মেয়েদের এমন হয়
By (author) সালাহ উদ্দিন শুভ্র
জীবনের গভীরতম গোপন কথাটি বলতে পারছেন না কাউকে? যত ব্যস্ত হচ্ছে ঢাকা তত অনিশ্চয়তায় পড়ছেন নিজের পজিশন নিয়ে? কিছুটা হতবিহ্বল, ভীত, আটকা পড়েছেন ঠিকানা আর একই রকম কাজের ফিকিরে?
হারিয়ে যাওয়ার জায়গা নাই আপনার, সুযোগ নাই পরাজয়ের? হারতে চাইছে না কেউ?
রাজনীতি নাই আগের মতো, ফেলে আসা রাজনীতির কথা মনে পড়ে মাঝে মাঝে? বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন ব্যর্থ হলো সবাই, কবে আর হবে বিপ্লব?
অবদমিত যৌন বাসনা নিয়ে কাজে যাচ্ছেন, ঘরে ফিরছেন, একা একা শুয়ে থাকছেন বিছানায়?
আদর্শের বড়াইয়ে বন্ধু হারাচ্ছেন, ক্রমাগত বিভেদ বাড়ছে চারপাশে। সমাজে যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অশান্তি অশান্তি লাগছে?
ভোট হচ্ছে কী হচ্ছে না, কিছু বুঝা আর যাচ্ছে না? ফেসবুকে যা ভেবেছিলেন ঘটে যাচ্ছে তার চেয়ে বেশি কিছু? এমন অনেক কিছু ঘটছে যা আগে ঘটে নাই?
তাহলে আপনার জন্য এ গল্পের বইটি। এই বইয়ে আপনি পাচ্ছেন নিজেকে, নিজের সময়কে, নিজ শহরের প্রতিবেশীকে জেনে নেয়ার সুখ।
পাচ্ছেন নির্মল গদ্য পড়ার আনন্দ। সূক্ষ্ম রসবোধ আর জমজমাট কাহিনি।
পড়তে শুরু করলে যা ছেড়ে উঠতে চাইবে না মন। পড়া শেষে যার স্বাদ ও সৌরভ লেগে থাকবে দীর্ঘক্ষণ।
মেশিন লার্নিংয়ের গাণিতিক অভিধান
মেশিন লার্নিংয়ের গাণিতিক অভিধান
By (author) অরিন্দম পাল
মেশিন লার্নিং হলো এমন একটি উচ্চমাত্রার প্রায়োগিক বিষয়, যেখানে কাজ করতে হলে আমাদের গণিত, পরিসংখ্যান, পদার্থবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে, নতুবা মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করে সফলতা পাওয়ার আশা করা উচিত না।
যারা বর্তমানে মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন, কাজ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যারা ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন এই বইটি তাদের জন্যই।
মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করার সময় অনেক কঠিন ও জটিল শব্দ যখন সামনে এসে আটকে দেয় এবং সেই শব্দের মর্মার্থ উদ্ধার করার জন্য কয়েক দিন বা কয়েক মাস সময় ব্যয় করার প্রয়োজন পড়ে, তাদের জন্য এই গাণিতিক অভিধান সাহায্য করবে। এ বইটি মূলত মেশিন লার্নিং প্র্যাকটিশনারদের জন্য।
মোকসেদুল বাংলা
মোকসেদুল বাংলা
By (author) আলমগীর নিষাদ
“কবিতা ও রাজনীতি- এই দুটির সম্পর্ক নিয়ে বাঙালি কবিদের মধ্যে খানিকটা দ্বিধা আছে; প্রথমত, ভেবে নেওয়া হয় রাজনীতি বুঝি কবিতার শিল্পত্বকে গ্রাস করে ফেলে আর তাই রাজনৈতিক কবিতামাত্রই স্লোগানধর্মী; দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন অনেক কবিই রাজনৈতিক চেতনাবশত কবিতার ভাষাগত আবছায়াটুকু লোপাট করে দেন কবিতা থেকে। এই দ্বিপক্ষীয় দ্বিধা কাটানো নিতান্ত জটিল একটি কাজ। আলমগীর নিষাদ তাঁর ছোট বই মোকসেদুল বাংলায় জটিল পথটিই বেছে নিয়েছেন এবং তাঁর পারঙ্গমতা প্রমাণ করেছেন। বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশকেন্দ্রিক লড়াইয়ে বাংলার গন্তব্য আদতে কী? এই রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজতাত্ত্বিক প্রশ্নটিকে নিষাদ নিয়ে এসেছেন কবিতায়।
সেক্যুলার ও ধর্মবাদী, কলকাতাকেন্দ্রিকতা ও ঢাকাকেন্দ্রিকতা, রাষ্ট্র ও সমাজ, ব্যক্তি ও জনগণ, জনসংস্কৃতি ও মূলধারার সংস্কৃতি, নিম্নবর্গ ও উচ্চবর্গ, বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লব- এসব বাইনারি পরিস্থিতির কাব্যিক উপস্থাপন জলবৎতরল কোনো ব্যাপার নয়। এই প্রস্তাবনায় নিষাদ বেছে নিয়েছেন অনেক কৌশল: নবুয়তি ভাষা, পোয়েটিক টোন, মেনিফেস্টোবাদী উচ্চারণ, গল্পকথন ও সিম্বলিক কৌশল। ছোট্ট একটি বইয়ে এত এত টেকনিকের ঘনীভূত আয়োজন সত্যিই বিস্ময়কর। কিন্তু প্রশ্ন হলো: টেকনিকের তৎপরতাগুলো পাঠককে কোথায় নিয়ে যায়? নিঃসন্দেহে পাঠককে পৌঁছে দেয় ইতিহাসের রাজদরজায়।
ঔপনিবেশিকতা, জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলারিজম, উচ্চ সংস্কৃতির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাতাবরণ বাঙালির যে মহাবয়ান তৈরি করেছে, সেই মহাবয়ানের খাদ ও সীমানাগুলো শনাক্ত করেছেন নিষাদ। শেষতক নিষাদের কবিতা হয়ে উঠেছে একটি প্রতিরোধী বয়ান বা কাউন্টার ডিসকোর্স। এই বয়ান ধর্ম, বিপ্লব, জনতা, প্রতিরোধ, নিম্নবর্গ নিয়ে আসতে চায় রাজনীতির কেন্দ্রে। আর তাই কবিতার বইটির নাম যখন হয়ে ওঠে মোকসেদুল বাংলা, তখন আমরা বুঝে যাই বাংলার নতুন মনজিল ও মকসুদের কথা ভাবছেন তিনি, যা এখনো অস্পষ্ট, কিন্তু সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতরে-ভেতরে অঙ্কুরোদ্গমের অপেক্ষায় বিদ্যমান।
মোহিনী আর নেই
মোহিনী আর নেই
By (author) মো. ইয়াছিন
অমিত ধীর পায়ে হাঁটছিল। মোহিনী তার থেকে অন্তত দশ হাত দূরে। সে জানে না, একটি মানুষ লুকিয়ে লুকিয়ে তার পিছু করছে। তবুও মাঝে মাঝে যখন পায়ের শব্দ টের পেয়ে পেছন ফিরে তাকাল, তখন মোহিনী গাছের আড়ালে গা ঢাকা দিলো। তারা যখন মকবুলদের বাড়ির উঠান পেরিয়ে যাচ্ছিল, তখন মোহিনী কী যেন মনে করে থমকে দাঁড়াল। বাড়ির দক্ষিণ পাশে গোরস্তান। সেখানে মকবুলের বাবার কবর। বউ পারুর কবর। দু’মাসের পুরনো কবরটার দিকে তাকালে এখনও নতুন মনে হয়। ঝোপঝাড়ের মাঝখানে অল্প একটু উঁচু জায়গা। চারপাশে বাঁশের বেড়া। সেখানে শুয়ে আছে পারু। সবাই জানে, পারু স্বাভাবিকভাবেই মরেছে। রাতে ঘুমিয়েছে। সকালে আর জেগে ওঠেনি। শুধু মোহিনী জানে, পারু এমনি এমনি মরেনি। মকবুল তাকে হত্যা করেছে।
মৌন মুন্নির বন্ধুরা
মৌন মুন্নির বন্ধুরা
By (author) অলকানন্দা রায়
মৌন মুন্নির বন্ধুরা- বাচ্চাদের জন্য রঙিন ছবিতে, শিক্ষনীয় সহজ গল্পে অসাধারণ একটি বই। এই বইয়ের ছবিগুলো শিশুর ভাবনার জগতে রঙয়ের পরিচয় ঘটাবে। ছবির সাথের গল্প শিশুকে তার চারপাশের জগত নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। শিশুকে চিন্তাশীল করে তুলবে এ বই।
বইটি চার থেকে আট বছরের বাচ্চাদের জন্য। যে সকল শিশু এখনও পড়তে শেখেনি তাদেরকে পড়ে শোনানো যেতে পারে। আর যারা বানান করে বাংলা পড়তে শিখেছে তাদেরকে একা পড়ার জন্যই প্রেরণা দেয়া উচিত। বড়রা শিশুদেরকে গল্প পড়ে শোনানোর সময় শিশুকে স্বাধীনভাবে বইটির ছবি দেখার সুযোগ করে দিলে শিশুর জন্যু গল্পটি বুঝতে আরও সহজ হবে। আর যে সকল শিশু নিজেরাই পড়বে তাদেরকে শব্দের অর্থ বুঝতে সহায়তা করা উচিত। যদিও গল্পটি খুবই সহজ ভাষায় লেখা তারপরও যদি কোনো শব্দের অর্থ শিশুর অজানা থাকে তাকে সেগুলো শিখিয়ে নেয়া যাবে।
বইটির গল্পে শিশু নিজেকেই খুঁজে পাবে, তার চারপাশের জগতকে খুঁজে পাবে। রঙিন ছবি তাকে ছবি আঁকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে। নতুন কিছু জানার জন্য, নতুন কিছু শেখার জন্য শিশুমনে উদ্দীপনা ও আগ্রহ জাগাতে সক্ষম এ বইটি।
শিশুদের যদি নিয়মিত রঙিন ছবিযুক্ত গল্পের বই পড়ার জন্য সময় দেয়া হয় সেই শিশু নিঃসন্দেহে সৃজনশীলতায়, মেধায়-মননে অনেকদূর এগিয়ে যায়। পড়ার অভ্যাস ছোটবেলায়ই গড়ে উঠলে সেই শিশু অন্য শিশুর তুলনায় বেশি মেধাবী ও সৃজনশীল তো হবেই একইসাথে শিশুর ভাবনার জগত হবে রঙিন, প্রাণবন্ত ও সম্বৃদ্ধ।