বর্ষার বিয়ে
বর্ষার বিয়ে
By (author) পারমিতা হিম
আমার মনে কৌতূহল হইল, অটোগ্রাফ কেমনে দেয় দেখি।
উঁকি মেরে দেখলাম, সেখানে লেখা—
‘অনেক অনেক শুভেচ্ছাসহ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল’
সবাইরে একই কথা লিখতেছে। আর নামটাও স্রেফ বানান করে লিখা। কোনো ঘোরানো-প্যাঁচানো স্টাইল নাই। ও রকম আমিও লিখতে পারি চাইলে। আমার কাছে নিজের স্বাক্ষর মানে শুধু প্রথম অক্ষর টানা হাতে বড় করে লেখা। ওইটা ছাড়া বাকিগুলা হবে প্যাঁচানো ও দুর্বোধ্য। যে লোক এমন নব্যসাক্ষরদের মতো নাম লেখে, তাকে মেধাহীন না ভাবার কোনো কারণই আমি পাইলাম না।
আমি ওনাকে বললাম, শুনেন, আপনার কারণে অনুষ্ঠানে অনেক ডিস্টার্ব হয়। এই একই কথা সবাইরে লিখতেছেন! আসার সময় এইটা এক হাজারটা ফটোকপি করে আনলেই পারতেন! হুদাই এত সময় নষ্ট হতো না। আপনারও হাত ব্যথা হইত না।
উনি আমার কথা শুনে হাসতে থাকলেন।
আমি বললাম, শোনেন, নেক্সট টাইম কিন্তু এইটা করবেন। মানুষরে এইসব ডিস্টার্ব দিবেন না। না হইলে আমি নিজে ফটোকপি করে নিয়ে আসব। আমি আনলে কিন্তু পার পিস পাঁচ টাকা করে বেচব। তখন কিছু বলতে পারবেন না।
বলা ও না-বলা কথা
বলা ও না-বলা কথা
By (author) মনজুরুল আহসান খান
আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ক্যান্টনমেন্টে। সেখানে একটা ছোটো ঘরে দেওয়ালে হাত রেখে পিঠে রাইফেল ঠেকিয়ে আমাদের চোখ খুলে দিলো…আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম। ফ্লোরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম… একটু পরে একজন দরজার নিচ দিয়ে টিনের প্লেটে করে রুটি-ভাজি দিয়ে গেল। আমি শান্তিমতো পেট ভরে খেলাম। একটু পরে কালো পোশাকধারী সিপাহি ঘরে ঢুকে কালো কাপড় দিয়ে আমার চোখ বেঁধে নিয়ে গেল টর্চার চেম্বারে। বসালো লোহার ইলেকট্রিক চেয়ারে…টানা তিন রাত জিজ্ঞাসাবাদ চলল…জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছাড়ার সময় সেনা অফিসারটি বলল, মনে হলো আপনিই আমাদের ইন্টারোগেট করলেন।
বাক্সবন্দি
বাক্সবন্দি
By (author) তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ
তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ
জন্ম নারায়ণগঞ্জের ফরাজিকান্দায় নানুবাড়িতে ৯ নভেম্বর ১৯৮৩ সালে। আর দাদার বাড়ি সাতক্ষীরায়। মা মোনাজ্জা হোসেন, বাবা মো: মোশাররফ হোসেন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে পড়াশোনা করলেও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সিনেমা নির্মাণ। এখন পর্যন্ত নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৬টি। এর মধ্যে ‘টোকাই ২০১২’ নামের প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি চীনের গুয়াংঝু আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবে অর্জন করেছে ‘বেস্ট ডকুমেন্টারি শর্ট ফিল্ম’ পুরস্কার।
বাক্সবন্দি তার প্রথম ছোটগল্পের বই
বাঘ
বাঘ
By (author) রোমেল রহমান
বাঘ এবং ওস্তাদের সংলাপের মধ্য দিয়ে সমসাময়িক বাংলা স্যাটায়ারে ‘বাঘ’ নামের এই সিরিজের আবির্ভাব। চলমান ঘটনা, রাজনীতি বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মিথগন্ধী বাঘের আবির্ভাব, সাহিত্যের ভাষায় লেখকের দায়শোধ না কি এই ধারাবাহিক রচনা তার একটি প্রকল্প বাক্স্বাধীনতা-রুদ্ধ এই সময়ে? রম্য ভাষ্যে ক্ষিপ্র এই গদ্য আমাদের সময়ের প্রতিটা মানুষের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া সেইসব তির্যক সংলাপ যেন। প্রশ্ন-উত্তরের ঘুরপ্যাঁচ আর প্রমিত কাঠামোর ঘরে-বাইরে দাঁড়িয়ে লেখক তার মত্ততা ছড়িয়ে দিয়েছেন পর্বে পর্বে। ছোট ছোট গদ্যের আবডালে গল্পগুলোয় এই সময়ের বাংলাদেশ কিংবা বিশ্ব লুকিয়ে আছে। বাস্তবতা যখন নতুন নতুন মোড়কে বন্দি হয়ে হাজির হচ্ছে রোজ নির্মমভাবে, ‘বাঘ’ সেখানে আমাদের পরমাত্মীয়।
বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে
বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে
By (author) ফাহাম আব্দুস সালাম
লেখালেখির শুরু যায়যায়দিনে; প্রবাস পিঞ্জর ও স্বদেশ বিহঙ্গ শিরোনামের দুটো নিয়মিত কলাম লিখতেন। পড়াশোনা: কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, য়ুনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন সিডনি ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল য়ুনিভার্সিটি। মলিকিউলার থেরাপিউটিক্সে পিএইচডি, পোস্ট-ডকে স্টেম সেল রিসার্চ— এখন কাজ করছেন রেগুলেটরি সায়েন্সে। গত দশ বছরে বিভিন্ন সময়ে লেখা প্রবন্ধের সংকলন “বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে” ফাহাম আব্দুস সালামের প্রথম বই। তার আগ্রহ: মনস্তত্ত্ব, ভাষা, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও ধর্ম। ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন ঢাকার ইতিহাস নিয়ে। ২০০৪ থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।
ফাহাম আব্দুস সালাম, শেহভারের বাবা।
বাবুদের জন্য প্রোগ্রামিং
বাবুদের জন্য প্রোগ্রামিং
By (author) প্রাপ্তী রহমান
বাবুদের জন্য প্রোগ্রামিং বইটি বাবুদের প্রোগ্রামিং শেখার যাত্রাকে যেমন করবে সহজ ঠিক তেমনই করবে আনন্দময়।
বইটির ভেতরে দেওয়া মজার মজার সব প্রবলেম সলভ করে তারা প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু টপিকের (ভ্যারিয়েবল, কন্ডিশনাল স্টেটমেন্ট, লুপ, অ্যালগরিদম ও ফ্লোচার্ট) সাথে পরিচিত হবে।
বইটির ভেতরে দেওয়া সমস্যাগুলোর সমাধান তারা নিজে থেকে চিন্তা করে খোঁজার চেষ্টা করবে।
ফলে তাদের লজিক বিল্ডিং এবং প্রবলেম সলভিং স্কিলস ছোট থেকেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। এতে করে তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা উদ্ভাবনী মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে।
বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ
বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ
By (author) মোহাম্মদ আজম
বাংলাদেশে উপনিবেশিত মনস্তত্ত্বের প্রতাপ ভয়াবহ পরিমাণে বেশি। ঔপনিবেশিক শাসনের কেন্দ্র হিসাবে কলকাতা যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিল, যেভাবে ‘নিজে’র সামগ্রিক আদল গড়ে নিয়েছিল, পূর্ববঙ্গ তার ভাগিদার হয়নি। দেশবিভাগেও তার মুক্তি ঘটেনি। বরং পাকিস্তানি শাসনের নানামাত্রিক বর্বরতা আর আরোপিত মতাদর্শের চাপের কারণে এই জনগোষ্ঠী নিজেদের অবস্থার স্বস্তিদায়ক পর্যালোচনার বদলে উপনিবেশিত অতীতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এর বড় প্রমাণ, ঔপনিবেশিক শাসনের যথার্থ ‘অপর’ হওয়া সত্ত্বেও ঢাকায় উপনিবেশিত অতীতের পর্যালোচনামূলক সন্দর্ভ রচিত হয়নি বললেই চলে।
বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হচ্ছিল
বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হচ্ছিল
By (author) শিশির ভট্টাচার্য্য
Bernard Henri-Lévy (বের্নার অঁরি লেভি, সংক্ষেপে B.H.L.) ফ্রান্সের Ecole Normale Supérieure এর সেরা ছাত্রদের একজন। এই স্কুলে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন সাম্প্রতিক কালের বিখ্যাত দার্শনিক Jacques Derrida এবং Louis Althusser। তিনি একজন সফল বুদ্ধিজীবী, সফল সাংবাদিক, সফল শিক্ষক, সফল তথ্যচিত্রনির্মাতা, সফল গবেষক, সফল কূটনীতিক, বহু পুস্তকের রচয়িতা (যার মধ্যে একাধিক বহুবিক্রিত, ইওরোপ এবং আমেরিকায়), সফল ব্যবসায়ী, ফ্রান্সের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং সুপুরুষ (সর্বার্থে)… এক কথায় একজন অতিসফল মানুষ। ফ্রান্সে ‘নব দার্শনিক’দের (Nouveaux Philosophes) অন্যতম বলে মনে করা হয় তাঁকে। অঁদ্রে মালরোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি মাত্র ২৩ বৎসর বয়সে বাংলাদেশে এসেছিলেন যুদ্ধের রিপোর্টার হিসেবে। যুদ্ধশেষে বাংলাদেশ সরকারের জন্যেও কাজ করেন কিছুদিন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত বর্তমান পুস্তক লেভির উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশে অবস্থানের অভিজ্ঞতার অনুপ্রেরণায় রচিত।
বাংলাদেশ, অর্থনীতির ৫০ বছর
বাংলাদেশ, অর্থনীতির ৫০ বছর
By (author) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার শপথকে বুকে আঁকড়ে ধরে ১৯৭১ সালে অর্থনৈতিক শোষণের নাগপাশ ছিন্ন করে চিরস্থায়ী মুক্তির আলোকযাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আজ ঠিক কোথায়? ৫০ বছরের অর্জন ও ব্যর্থতা, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ— সুনিপুণ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নতুন পথপরিক্রমার সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করাই সুবর্ণজয়ন্তীর প্রধানতম উপলব্ধি হওয়া চাই।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
By (author) ড. মারুফ মল্লিক
জাতীয়তাবাদ আবারও আলোচনায় উঠে আসছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামতই আছে। জাতীয়তাবাদ রাজনীতিবিজ্ঞানের এক অমীমাংসিত বিষয়। এ সম্পর্কে আলোচনা ও সমালোচনা সম্ভবত শেষ হবে না। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে জাতীয়তাবাদ আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের এখানে সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন ধারার ও চেতনার জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটেছে। বাংলাদেশ বা পূর্ববঙ্গে মুসলিম, বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ লক্ষ করা যায়। জাতীয়তাবাদ মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠে। সমাজের ভেতর থেকে জাতীয়তাবাদের ধারা সৃষ্টি হয়। তবে কখনো কখনো রাষ্ট্রের হাত ধরেও জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটে। এই বইয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ভালো কি মন্দ, সেই আলোচনায় না গিয়ে রাষ্ট্র কীভাবে জাতীয়তাবাদের প্রয়োগ করে, এটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইয়ের প্রথম ভাগে জাতীয়তাবাদেন উদ্ভব ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কীভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের শ্রেণি ও চরিত্র বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদের এই সংকটের যুগে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কোথায় অবস্থান করছে।
বাংলাদেশে রেলওয়ে
বাংলাদেশে রেলওয়ে
By (author) শাকিল আহমেদ
বইটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে রেলের ইতিহাস এবং বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে রেলের প্রভাব, সুদীর্ঘ রেল ইতিহাসের প্রতিটি রেল সেকশন নির্মাণ এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গল্পের ছলে ইতিহাস উপস্থাপন। রেল সম্পর্কিত সামগ্রিক বিষয়াবলি একত্রিত করে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন বইটি চলমান তথ্যের ভাণ্ডার।
বিগত দেড়শ বছরে রেলওয়ে কীভাবে বাংলায় সভ্যতা বিনির্মাণে ভূমিকা রাখল তার কিছুটা আলোকচ্ছটা উঠে এসেছে এখানে। যারা ইতিহাস জানতে চান, বাংলাকে জানতে চান, অতীতকে জানতে চান, বইটি মূলত তাদের জন্য।
রেল কেবল লোহা-লক্কড়ের গল্প নয়, এ জনপদের আধুনিক সভ্যতার দিকে পা ফেলবার ইতিহাস। শুধু ইতিহাসের আলাপ নয়, বর্তমান বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভবিষ্যতের রেল পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তর আলোচনা এসেছে বইটিতে। বইটির সামগ্রিক বিষয়াবলি রেলওয়ে সম্পর্কিত যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করছি।