চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার
চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার
By (author) রাহিতুল ইসলাম
বাংলাদেশের গ্রামগুলো ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ঐতিহ্য আর সেই সঙ্গে গ্রামের মেধাবী তরুণরা চলে যাচ্ছে শহরে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান সময়েও এগোচ্ছে না গ্রামগুলো। কিন্তু অনেক প্রতিকূলতা আর বাধা–বিপত্তির মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত বদলে দেয় সমাজকে, বদলে দেয় আমাদের গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি। রাহিতুল ইসলামের ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ বইটি তেমনই একটি দৃষ্টান্ত। একজন তরুণের একটি সিদ্ধান্ত শুধু তার নিজের জীবনই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছে পুরো একটি চরকে।
বর্তমান সময়ে এমন একটি বই তরুণদের জন্য ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গ্রাম আধুনিক হলে, বদলে যাবে পুরো দেশের চিত্র। আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তা পাবে বাস্তবতার ছোঁয়া। এ বইটি আমাদের তরুণ সমাজকে সেই স্বপ্নপূরণের সাহস জোগাবে। রাহিতুল ইসলামের আগের বইগুলো, যেমন— আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প, কেমন আছে ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া—যতটা সাড়া ফেলেছিল পাঠকের মধ্যে, আমার ধারণা ‘চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার’ এর চেয়ে বেশিসংখ্যক পাঠকের মনে দাগ কাটবে। এই গল্পের চরিত্রগুলো হয়ে উঠবে সবার জন্য অনুপ্রেরণা ও অনুসরণীয়।
মুনির হাসান
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিএসএন) ও
যুব কর্মসূচি সমন্বয়ক, দৈনিক প্রথম আলো।
রাইটার্স ইনফো
চাঁদের চিবুক
চাঁদের চিবুক
By (author) মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান
মোহাম্মদ আছাদুজ্জামানের কবিতা পাঠ করলেই বোঝা যায় তিনি যাপনে, উচ্চারণে আর অনুভবে সার্বক্ষণিক কবি। তিনি তার যাপিত জীবনের আগাপাছতলা ছেঁকে কবিতাকে বের করে আনেন। এ জন্য তার কবিতা খুব সহজেই পাঠকের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলে। তার কবিতায় কসরতের কোনো চিহ্নমাত্র নেই, আছে অনায়াস উচ্চারণের ভঙ্গি। ফলে আছাদুজ্জামানের কবিতা পাঠককে দীর্ঘশ্বাসের মতো আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। আছাদ কবিতা লেখেন অনুভবের ভেতরবাড়ি থেকে। কবিতার মধ্যে তার নিজস্ব অনুভবের গভীরতা এত তীব্র আর গভীর থাকে যে, কবির ব্যক্তিগত অনুভব-অনুভূতি পাঠককে খুব সহজেই কাবু করে ফেলে, আক্রান্ত করে ফেলে, রাহুর মতো গ্রাস করে ফেলে। ফলে আছাদের কবিতা পাঠান্তে পাঠক অনেকক্ষণ একটা কাব্যিক আবেশ আর ঘোরের মধ্যে থাকেন। আছাদ তার কবিতায় এই ঘোর তৈরি করেন ছন্দ, তীব্র-তীক্ষ্ন রোমান্টিক কল্পনা, দারুণ স্পর্শকাতর আবেগ এবং দার্শনিক ভাবপ্রবণতা দিয়ে। চাঁদের চিবুক আছাদুজ্জামানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থ যথার্থ কবিতাপিপাসুদের আনন্দ দেবে, তৃপ্ত করবে—এ কথা বোধ করি অত্যুক্তি নয়।
ড. কুদরত-ই-হুদা
গবেষক-প্রাবন্ধিক
চায়ের কাপে সাঁতার
চায়ের কাপে সাঁতার
By (author) এনামুল রেজা
তার মুখ দেখে বিনয় জেনে নিতে চেষ্টা করে অনেক কিছু। যেমন, বাবা-মা আর বোনদের সন্ধান ছেলেটি পায়নি, পশোহরকে তার এক মৃত্যুপুরী মনে হয়েছে। সেই শহরে কাকেদের ভাষা মানুষ বুঝতে পারে, হত্যাকাণ্ড চালানোর পর সৈন্যরা ভুলে যায় কেন ওরা এখানে এসেছে আর নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করে খুব। গোটা অঞ্চলে আলোহীন ভূতুড়ে ট্রেন চলাচল করে রাতের বেলা। স্টেশন ঘরের খুপরি জানালার ওপরে লেখা থাকে, ‘টিকিট লইবেন।’
চিত্ত লোচন
চিত্ত লোচন
By (author) তানভীর রাফি
পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিত্ব, আচরণ, চিন্তা করার ধরন আলাদা। সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা কাউকে দেখে বলতে পারি না, সেই মানুষটা আসলে কেমন স্বভাবের। কারণ মানুষের মন দেখা যায় না। মানুষের স্বভাব জানতে হলে মনকে অনুধাবন করতে হয়। অথচ মনের যদি একটা চোখ থাকত তাহলে খুব সহজেই আমরা একজন মানুষের মনকে বুঝতে পারতাম। মনের যেহেতু চোখ নেই, তাই মনকে অনুধাবন করার একমাত্র মাধ্যম মানুষের মস্তিষ্ক। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো কীভাবে মানুষের আচরণ এবং মানসিকতায় প্রভাব ফেলে সেসব নিয়েই লেখা চিত্ত লোচন।
চিন্তা এক্সপ্রেস
চিন্তা এক্সপ্রেস
By (author) মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়
ধরা যাক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে আছে এক মৃত হুতোম প্যাঁচা; লাশটির দায় অথবা দায়িত্ব কোন দেশের?
গুগলে খুঁজলে হিউম্যানোলজিস্ট এবং বায়োপিক অ্যানালিস্ট দুটো শব্দই পাওয়া যাবে; কিন্তু যদি বলি হিউমারাইটার, তন্ন তন্ন তালাশেও গুগল পাবে না তার হদিস। এটাই বুঝতে চাইছে না পিনছু কারিগর নামের ব্যক্তি, পেশার স্থলে লিখবে ‘বায়োপিক অ্যানালিস্ট’।
পরিতাপের বিষয় হলো অদ্যাবধি ৭০-৮০ জন ব্যক্তিকে বায়োপিক অ্যানালিস্ট সম্বন্ধে আভাস দিয়েছি; বিদেশে-পড়ুয়ারা বলে এটা ডেটা সায়েন্স আর মেশিন লার্নিংয়ের উচ্চস্তরের জ্ঞান, কেবলমাত্র পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাকে ভিত্তি ধরে যদি কেউ নিজেকে বায়োপিক অ্যানালিস্ট পরিচয় দেয়, সেটা একজন ওষুধের দোকানির নিউরোলজিস্ট হওয়ার মতো। পিনছু কারিগর ভণ্ড-প্রতারক, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অশিক্ষিত আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে অনগ্রসর হওয়ায় সে ফাঁপরবাজি করতে পারছে, ইউরোপ-আমেরিকা হলে এত দিনে জেল খাটত। দেশিদের জিজ্ঞাসা বায়োপিক অ্যানালিস্ট মানে কী আসলে; সঞ্জয় দত্ত-মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিক নির্মিত হয়েছে বলিউডে; এটা কি সিনেমাসংশ্লিষ্ট পেশা! এসবেও দমে না পিনছু কারিগর, উপরন্তু আমার জোটে কর্কশ ভর্ৎসনা- ‘আমি প্রতারক নাকি সিনেমা পরিচালক তাতে আপনার কী, কারও অনুপস্থিতিতে তার পেশা নিয়ে কথা বলাটা যে অরুচিকর ভেবেছেন কখনো, নাকি ননসেন্স থাকাটাই জীবনের অ্যাম্বিশন?’
ভারাক্রান্ত মনে তাই জনৈক সঞ্চিতার প্রতি পত্র লিখছি, যেগুলো কোনো দিনই পৌঁছুবে না প্রাপকের গন্তব্যে। তবু লিখছি, কেন লিখছি ভাবছি না।
পিনছু কারিগর যদি হিউমারাইটার শব্দটা ব্যবহার করত, কী ভাষ্য হতো মিডিওক্রিটিপুষ্ট মানুষদের? উত্তর দিন হে ‘সুপরিচিত সঞ্চিতা’!
চীনের শিক্ষাব্যবস্থা: উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক সম্ভাবনা
চীনের শিক্ষাব্যবস্থা: উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক সম্ভাবনা
By (author) এনামুল হক টুটুল, ছাওইয়ানহুয়া
চীনের শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে এক নবযুগ অতিক্রম করছে। নিজেদের মহান রাজনৈতিক দর্শন ও সুপ্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করে চীনের শিক্ষাব্যবস্থা এক বৈশ্বিক সম্ভাবনার স্বর্ণদুয়ার উন্মোচন করেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী আধুনিকায়ন ও সংস্কার, চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ ও চীনা সংস্কৃতির সম্প্রসারণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বের সাথে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ বর্তমান চীনের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা।
চীনের শিক্ষার্থীরা যেমন বিশ্ব জয় করছেন, তেমনি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করছেন। এই বৈশিষ্ট্যই চীনা শিক্ষাব্যবস্থাকে দিয়েছে অনন্যতা। চীনে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য এ বইটি পথপ্রদর্শকের কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
চেষ্টার জিমনেসিয়াম ফিউচারের ক্যালসিয়াম
চেষ্টার জিমনেসিয়াম ফিউচারের ক্যালসিয়াম
By (author) ঝংকার মাহবুব
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়
ফোঁড়া না গেলে দিলে, কষ্টে কাটবে রাতভোর
রিস্ক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো, মুচড়ে ফেলে সংশয়
৩ মাসেই সারতে পারবে, সারা বছরের আমাশয়
দাঁত নাই, ব্রাশ নাই, খুঁজছে তবু পেপসোডেন্ট
মরন কামড় বসায় দিতে লাগে শুধু কনফিডেন্ট
উষ্ঠা খাইয়াও চেষ্টা করো, ধইরা ভাঙ্গা বন্দুক
স্টুডেন্ট লাইফের কামাই দিয়ে ভরতে পারবে সিন্দুক
ইনিডিসিশনের চিপায় পড়ে মগজ হলে খন্ড
চালাক চতুর বাতাস পেয়ে, পোক্ত হবে দন্ড
সিক্রেট পাইয়া খুশির ঠেলায় বগল বাজায় জাম্বু
শুকনা রাস্তায় আছাড় খাইছে, না থাকায় বাম্বু
গুঁতা দিয়ে শ্রোতা খুঁজে, না পেয়ে পাত্তা
মাঞ্জামারা দিনগুলো সব, হয়ে যাচ্ছে ভর্তা
আর্জেন্ট কাজের দোহাই দিয়ে ফাঁপর মারে সার্জেন্ট
চামে দিয়া কাম সারে কদু মার্কা ডিটারজেন্ট
মরা ইঞ্জিনে খরার মাসে উতলে উঠছে যৌবন
জিদ্দি ড্রাইভারের বক্ষে লাগছে কড়া তাবিজের চুম্বন
ধন-জৌলস গায়েব হবে, হইয়া থাকলে বিন্দাস
মাইনকা চিপায় ক্রাশ খাবে পার্বতীর দেবদাস
ক্যারিয়ারে বেদিশা হয়ে, বুক করলে চিন চিন
মামা-খালুর লিংক পেলে, উপচে পড়বে আয়োডিন
স্টার্টআপ এর রিস্ক নিয়ে দেখাইতে পারলে কেরামতি
গেরিলা টেকনিকই এনে দিবে প্যারেন্টসদের সম্মতি
লো কনফিডেন্স গুঁতা মারলে লুজ হবে মেশিনারি
অক্টাল ডেসিমাল ছুতা খুঁজলেও, ভিতরে সব বাইনারি
অলসতার বড়ি গিললে, হতাশা পাবে কারখানা
চৌষট্টি পাখুড়ি
চৌষট্টি পাখুড়ি
By (author) সোহেল হাসান গালিব
দীর্ঘ সময়জুড়ে রচিত এই কাব্য। কবির ভাষায় : ‘আয়ুরেখা মুছে মুছে এতটা এসেছি। ভয়ে ভয়ে।/ পুষ্প বা পাদুকা—কোনো চিহ্নই রাখি নি পিছে ফেলে।’
যদিও গ্রন্থের নাম ‘চৌষট্টি পাখুড়ি’। পাখুড়ি মানে পাপড়ি। সেই কবে চর্যার সাধক বলেছিলেন: ‘একটি পদ্ম, চৌষট্টি পাখুড়ি/ তাতে নাচে ডোমনি সুন্দরী’—তারই শরণ নিয়েছেন আজকের কবি, নিজেকে হাজির করেছেন নিজেরেই ধ্যানের ‘চণ্ডী’-দাস ব’লে।
কবিতাগুলি একটি বিশেষ আঙ্গিকে লেখা। কবির অভিধায় ‘অষ্টাদশী ফর্ম’। চতুর্দশী অর্থাৎ চতুর্দশপদী কবিতাকে তিনি এখানে প্রত্যাখ্যান করেছেন ‘নাবালিকা ফর্ম’ ব’লে।
চৌষট্টি পাখুড়ির দুটি পর্ব—ঘ্রাণ আর রেণু। কী আছে সেখানে? সেটা পাঠকই আবিষ্কার করবেন। আমরা কেবল একটি সূত্র অনুসন্ধান করতে পারি, তারই কিছু পঙ্ক্তির আশ্রয়ে:
কন্যারাশি মেঘ ওহে,
রৌদ্রনীল ক্রিস্টালের আকাশ পেছনে ফেলে রেখে
অন্তত একটিবার ধূলিমগ্ন জীবনের দিকে
চাও—এক বিন্দু জল তুমি দাও জিভের ডগায়।
ছেঁটে ফেলা বটগাছ, খেয়ে ফেলা নদী
ছেঁটে ফেলা বটগাছ, খেয়ে ফেলা নদী
By (author) আনু মুহাম্মদ
দেশে এখন বড় রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটেও আক্রান্ত। একদিকে রিজার্ভ সংকট, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ। এর পাশাপাশি আছে লাগামছাড়া সন্ত্রাস, দখল, লুণ্ঠন, সম্পদপাচার। দৃশ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশে ঋণ ও দুর্নীতির পাহাড়; এর তাণ্ডবে বন, নদী, মানুষ, পশু, পাখি, জীববৈচিত্র্য তথা সর্বপ্রাণের বিপন্ন দশা। দেশের নাগরিকদের জন্য আছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা আর বিচারহীনতা। আছে শিক্ষা ও চিকিৎসার দুর্গতি। ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের চেষ্টায় একতরফা নির্বাচনের আয়োজনে দেশজুড়ে ধরপাকড়, সন্ত্রাস, আতঙ্ক। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকার- সবই বিপর্যস্ত। এই সবগুলোই একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত। এই বইয়ের মূল মনোযোগ এখানেই।
ছেলেদের রামায়ণ
ছেলেদের রামায়ণ
By (author) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
রামায়ণ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মহাকাব্য। প্রাচীন ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থা এই মহাকাব্যে ধরা পড়েছে। রামায়ণ আমাদের সত্য ও কল্যাণের পথে চলতে শেখায়, অধর্মের পথ পরিহার করে ধর্মের পথে জীবনযাপনের কথা বলে। রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, হনুমান, রাজা দশরথ, কৌশল্যা, শত্রুঘ্ন, বিভীষণ, মন্দোদরীসহ অসংখ্য চরিত্র রয়েছে রামায়ণে। কেবল মানুষই নয়, বানর হনুমান, জটায়ুসহ অনেক পশুপাখি এখানে মানুষের ভাষায় কথা বলে, মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিবেদন করে। মানুষ, রাক্ষস, দেবতা ও পশুপাখির নানা কাজে-কর্মে কিশোরমন নিশ্চয়ই আন্দোলিত হবে। রামায়ণে যে ভারতবর্ষের দেখা মিলবে, তা এক স্বপ্ন ও ছবির দেশ।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন-কল্পনার জগৎকে মিথপুরাণের বিপুল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই ‘ছেলেদের রামায়ণ’ একান্তভাবেই উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর নিজস্ব সৃষ্টি। আদিকবি ঋষি বাল্মীকির কাছ থেকে তিনি যা গ্রহণ করেছেন, তা উপেন্দ্রকিশোরের কল্পনাপ্রতিভার ছোঁয়ায় নতুন রূপ ও মাত্রা পেয়েছে। এই নতুনত্বের মন্ত্রেই রামায়ণ সব যুগের, সব বয়সী পাঠকের নিজস্ব শিল্পসম্পদ হয়ে ওঠে। আদিকাণ্ড, অযোদ্ধাকাণ্ড, আরণ্যকাণ্ড, কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড, সুন্দরকাণ্ড, লঙ্কাকাণ্ড— সবখানেই কিশোরমন অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার ভাঁজ খুলে শিশু-কিশোররা সামনে এগিয়ে যেতে শেখে। বাস্তববোধ ও কাণ্ডজ্ঞানের বাইরেও যে জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার রয়েছে, রামায়ণের চরিত্রসমূহ তা আমাদের উপলব্ধি করতে শেখায়।